
আগরতলা, ৩ জুন (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র নাগেরজলায় বুধবার পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুর নিগমের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিকের বিরুদ্ধে শোষণ, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি এবং শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রতিবাদস্বরূপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় নাগেরজলা থেকে পরিচালিত বিভিন্ন পরিবহন পরিষেবা।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের উপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়, তোলাবাজি এবং শ্রমিকদের হয়রানি করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তাঁরা। একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বুধবার সকালে পরিবহন শ্রমিকরা নাগেরজলা মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে আন্দোলনে সামিল হন। এর ফলে বহু যাত্রীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অফিসগামী কর্মী, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় পরিবহন সংকটের মুখে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালীন হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর কয়েকজন কর্মীর উপর আক্রমণ চালানো হয়। এই ঘটনায় অন্তত তিন থেকে চারজন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর অভিজিৎ মল্লিক। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে নাগেরজলার পরিবহন ব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, নাগেরজলা এলাকায় ভারতীয় মজদুর সংঘের কোনও সাংগঠনিক উপস্থিতি নেই এবং লিটন কর নামে যিনি অভিযোগ তুলছেন, তিনি বিএমএস-র কোনও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।
ঘটনার জেরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার অভিযোগে কারা জড়িত এবং শ্রমিকদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
পরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং শ্রমিকদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নাগেরজলার পরিস্থিতি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবহন শ্রমিক মহল এবং সাধারণ মানুষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ