
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৩ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরার জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী তথা কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে এলাকাজুড়ে। পানীয় জল, পরিকাঠামো ও জনসংযোগের অভাবকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেল ভূমিহীন টিলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন টিলা এলাকায় প্রায় ৭০টি পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন বাসিন্দারা। এলাকায় একটি বড় জলাধার ও জল সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত জল সরবরাহ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম চালাতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা জানানো হলেও কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাঁদের বক্তব্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট চাইতে এলাকায় এসেছিলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে তিনি আর এলাকায় আসেননি বলেই অভিযোগ।
মন্ত্রী সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাসিন্দারা বলেন, ভোটের আগে নেতাদের দেখা মিললেও ভোটের পরে সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে কেউ মাথা ঘামান না। এলাকার উন্নয়ন ও মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
শুধু ভূমিহীন টিলা নয়, কৃষ্ণপুর বিধানসভার বিভিন্ন জনপদেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শাসকদলের একাংশের কর্মী-সমর্থক, পঞ্চায়েত প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের বক্তব্য, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসংযোগের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
যদিও ভোট এখনও অনেক দূরের বিষয়, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী দিনে এই অসন্তোষ রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় জনসমস্যা ও জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ