‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্পের বলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে : অসম বিজেপি
- ‘অসমের জন্য বরাদ্দকৃত ১,৯২৯.৭০ কোটি টাকায় গ্রামোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’ গুয়াহাটি, ১ জুলাই (হি.স.) : ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ (এমজিএনআরইজিএ)-এর পরিবৰ্তিত নতুন নাম ‘বিকশিত ভারত গ্রামীণ নিয়োগ নিশ্চয
ভিবি-জি রাম জি_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


- ‘অসমের জন্য বরাদ্দকৃত ১,৯২৯.৭০ কোটি টাকায় গ্রামোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’

গুয়াহাটি, ১ জুলাই (হি.স.) : ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ (এমজিএনআরইজিএ)-এর পরিবৰ্তিত নতুন নাম ‘বিকশিত ভারত গ্রামীণ নিয়োগ নিশ্চয়তা ও জীবিকা অভিযান’ (বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ, সংক্ষেপে ভিবি-জি রাম জি) ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় সরকার আজ ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৫,৬৯২.৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে অসমের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১,৯২৯.৭০ কোটি টাকা।

এ সম্পৰ্কে দলের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে অসম প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র ড. দেবজিৎ মহন্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর রাজ্যের প্রতিটি পঞ্চায়েতকে ১ কোটি টাকা করে প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যাতে পঞ্চায়েতের অধীনস্থ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে। ‘ভিবি-জি রাম জি’-র অধীনে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে ১২৫ দিনের জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নতুন ‘ভিবি-জি রাম জি’-র মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রামের উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে দক্ষতাবিহীন শ্রমের জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থান, স্থানীয় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, কৃষি ও শ্রমিকদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্রামের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ মানুষের জীবিকার মানোন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর ঘটানো।

মুখপাত্র ড. মহন্ত বলেন, আগের এমজিএনআরইজিএ-তে যেখানে ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে নতুন ‘ভিবি-জি রাম জি’-তে তা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

এছাড়া কৃষকরা যাতে ধান রোপণ ও ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটে না পড়েন, সে জন্য ওই সময়ে ‘ভিবি-জি রাম জি’-র অধীনে শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না। বীজ বপন ও ফসল কাটার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, কৃষিকাজে শ্রমিকের অভাব দূর করা এবং কৃষকরাও যাতে প্রয়োজনে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।

আগের এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সমস্ত ব্যয় কেন্দ্রীয় সরকার বহন করত। কিন্তু নতুন ‘ভিবি-জি রাম জি’-তে রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ বহন করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার। তবে অসম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্য, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশের মতো বিশেষ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যয়ের অনুপাত হবে ৯০:১০, অর্থাৎ ৯০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র এবং ১০ শতাংশ বহন করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার।

বিজেপির প্রদেশ মুখপাত্র ড. দেবজিৎ বলেন, ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সরকারের আমলে এমজিএনআরইজিএ-র জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ২,১৩,২২০ কোটি টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার শুধুমাত্র এক বছরের জন্যই ‘ভিবি-জি রাম জি’-র জন্য ৯৫,৬৯১.৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রকল্পের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো বরাদ্দ অর্থের নিরীক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের তদারকি। এ উদ্দেশ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

‘ভিবি-জি রাম জি’-র সমস্ত কাজের পর্যবেক্ষণের জন্য মোবাইলের জিপিএস প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হবে।

ড. মহন্ত বলেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে এমজিএনআরইজিএ-র অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ সর্বজনবিদিত। কিন্তু নতুন ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্প অর্থের অপব্যবহার রোধ করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে, কৃষি উৎপাদনশীলতা ও শ্রমিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত অসম ও বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে গ্রামীণ মানুষের জীবন ও জীবিকার মান আরও উন্নত করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande