
গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (হি.স.) : অসম বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ২,০০,৭৮২ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া। বিজেপির প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া এই বাজেটকে রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এবং অসমের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনকারী জনকল্যাণমুখী বাজেট হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দিলীপ শইকিয়া বলেন, এই বাজেটে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা ও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উন্নত অসম গড়ার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই এই বাজেটের মূল দর্শন।
প্রদেশ সভাপতি বলেন, গত বছরে রাজ্যের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১,৮৫,৪২৯ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি। এবারের বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখিয়ে আগামী দিনে আরও ২ লক্ষ চাকরি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিএমএএএ প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকা :
শক্তিশালী অসম গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, বলেন তিনি। বলেন, বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্পের জন্য ৪,৯৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে ৮০০ কিলোমিটার উন্নত মানের সড়ক নির্মাণ, বাইহাটা চারিয়ালি-মিশন চারিয়ালি চার লেনের রাস্তা, গুয়াহাটি বিমানবন্দর-জালুকবাড়ি এলিভেটেড করিডর এবং মরিগাঁও-দরং সংযোগকারী ব্রহ্মপুত্রের ওপর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
স্যাটেলাইট টাউনশিপ প্রকল্পের জন্য ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবুজ জ্বালানিতে ৭৭,৩৫৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ লক্ষ্য :
বাজেটে গ্রিন এনার্জির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ৭৭,৩৫৩ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অসমকে উত্তরপূর্ব ভারতের গ্রিন এনার্জি হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জলসেচ ও কৃষির সমন্বিত উন্নয়নের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৪,০০০ কোটি টাকার বৃহৎ সেচ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র) মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে ‘মিশন বসুন্ধরা ৪.০’ পুনরায় চালু করা হবে। ইতিমধ্যেই ৩.৫৬ লক্ষ পরিবারকে ভূমির অধিকার প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগ :
এবারের বাজেটে অসমের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আরও চারটি নতুন মেডিকেল কলেজ নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০ শয্যার ফার্স্ট রেফারেল ইউনিট এবং প্রতিটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগে ৩৩,২৪০টি নতুন পদ সৃষ্টির ঘোষণাকেও তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলে জানান।
শিক্ষা ও পর্যটনে জোর :
শিক্ষাক্ষেত্রে বড় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে ‘এক জেলা-এক বিশ্ববিদ্যালয়’ নীতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন বিজেপি সভাপতি। বাজেটে শিবসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বরুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর লখিমপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কোকরাঝাড় বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গাইগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
অসমকে ভারতের শীর্ষ ১০টি পর্যটন রাজ্যের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উমরাংসু, হাফলং এবং মানসে একটি করে পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন :
‘সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণই জনসেবার ভিত্তি’, এই নীতিকে সামনে রেখে বাজেটে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করার ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘আপোন ঘর’ প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে এবং ঋণের সীমা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন :
বাজেটে অসমের ঐতিহাসিক স্থান রংঘর, কারেংঘর ইত্যাদির সংরক্ষণ এবং সত্ৰ কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১.১৪ লক্ষ চা বাগান পরিবারের জন্য ভূমির অধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাগ্রিকালচারাল ইনকাম ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ চা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিন প্ৰদেশ বিজেপির কার্যালয়ে দলের প্রবীণ নেতারা বাজেটের সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানে অংশগ্ৰহণ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস