বাজেট : ‘অসম মালা ৪.০’-এ ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ; সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগে একাধিক মেগা প্রকল্পের ঘোষণা
গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (হি.স.) : রাজ্যের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘অসম মালা ৪.০’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে অসম সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের অধীনে ৮০০ কিলোমিটার উন্নতমানের সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কেন্
বাজেট বক্তৃতা অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়ার


গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (হি.স.) : রাজ্যের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘অসম মালা ৪.০’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে অসম সরকার। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের অধীনে ৮০০ কিলোমিটার উন্নতমানের সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের সহযোগিতায় ৫৫ হাজার কোটির বেশি টাকার একাধিক মেগা সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া জানান, অসম মালা ১.০, ২.০ এবং ৩.০ প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শুরু হচ্ছে ‘অসম মালা ৪.০’। পূর্ববর্তী তিনটি পর্যায়ে ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অসম মালা ৪.০ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে রাজ্যের নিজস্ব তহবিল, বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প (ইএপি), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল (আরআইডিএফ) এবং নিউ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (এনআইডিএ)-এর মাধ্যমে।

৫৫ হাজার কোটিরও বেশি টাকার মেগা প্রকল্প :

অর্থমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের সহযোগিতায় বর্তমানে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের একাধিক বৃহৎ যোগাযোগ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে,

৪,৯৫৪ কোটি টাকার গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্প।

২২,৮৬৪ কোটি টাকার গ্রিনফিল্ড শিলচর হাই-স্পিড করিডর।

৬,৯৫৭ কোটি টাকার কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর।

১৮,৬৬২ কোটি টাকার গোহপুর-নুমালীগড় ব্রহ্মপুত্র টানেল প্রকল্প।

অৰ্থমন্ত্ৰী বলেন, গ্রিনফিল্ড শিলচর হাই-স্পিড করিডর নির্মিত হলে বর্তমানে গুয়াহাটি থেকে শিলচর যেতে যেখানে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা সময় লাগে, তা কমে প্রায় পাঁচ ঘণ্টায় নেমে আসবে।

আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প :

তিনি জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেগুলি হলো যথাক্রমে -

১৩,৮১২ কোটি টাকার বাইহাটা চারিআলি-মিশন চারিআলি-তেজপুর চার লেন সড়ক নির্মাণ,

৩,৪২৩ কোটি টাকার গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে জালুকবাড়ি পর্যন্ত এলিভেটেড করিডর এবং

মরিগাঁও ও দরং জেলাকে সংযুক্ত করে ব্রহ্মপুত্রের উপর নতুন সেতু নির্মাণ।

ভবিষ্যতের এক্সপ্রেস করিডরের প্রস্তুতি :

রাজ্যের ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড়াপানি-গুয়াহাটি এবং গুয়াহাটি-শিলিগুড়ি, এই দুটি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার (এক্সেস-কন্ট্রোলড) এক্সপ্রেস করিডরের জন্য সমীক্ষা ও প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি উচ্চগতির সড়ক প্রকল্পের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরি করা হবে।

সেতু নির্মাণে গতি :

অর্থমন্ত্রী জানান, ১,৪০০ কোটি টাকার মাজুলি-যোরহাট সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মাজুলির সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সারা বছরের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

এছাড়া ৩,১৯৭ কোটি টাকার পলাশবাড়ি-শুয়ালকুচি সেতু প্রকল্পের ৪৯ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে শেষ হয়েছে ৪,৯৯৭ কোটি টাকার ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতু নির্মাণের ৭৭ শতাংশ কাজ। সেতুটি চালু হলে ধুবড়ি ও ফুলবাড়ির মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

এছাড়া ‘সেতু বন্ধন প্রকল্প’-এর অধীনে বরাক নদীর উপর গান্ধীঘাটে একটি নতুন সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মধুরামুখকে শিলচর শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্রের দুই তীরের প্রতিটি জেলাকে অন্তত একটি করে সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত করা হবে।

রেল যোগাযোগেও নতুন উদ্যোগ :

রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে উমরাংসো পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। লংকুলা থেকে উমরাংসো পর্যন্ত ১৫.৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০৮৪ কোটি টাকার ডিপিআর ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের জুন মাসে রেল বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য জেলাগুলির রেল যোগাযোগের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande