
- উত্তরপূর্ব ভারতের ‘গ্রিন এনার্জি হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য, জলবিদ্যুৎ, সৌর, তাপবিদ্যুৎ ও শক্তি সঞ্চয় প্রকল্পে বড় উদ্যোগ
গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (হি.স.) : জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং অসমকে উত্তরপূর্ব ভারতের ‘গ্রিন এনার্জি হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ৭৭ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা করেছে অসম সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, তাপবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন অৰ্থমন্ত্ৰী জয়ন্তমল্ল বরুয়া।
আজ শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বলেন, রাজ্যের বিপুল সবুজ জ্বালানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অসমকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রাজ্যে পরিণত করার পাশাপাশি উত্তরপূর্ব ভারতের গ্রিন এনার্জি হাব হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘অসমের সবুজ জ্বালানি সম্ভাবনাকে পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে সরকার বদ্ধপরিকর। রাজ্যকে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত এবং উত্তরপূর্ব ভারতের গ্রিন এনার্জি হাবে পরিণত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ বিনিয়োগ কর্মসূচির অর্থায়ন করা হবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল, কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত প্রকল্প, বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প (ইএপি) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যমে।
একাধিক মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প :
বাজেটে ঘোষিত প্রধান প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে,
৪,৯০০ মেগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার (পিএসপি) প্রকল্পে ২৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা,
৩,২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪০ হাজার কোটি টাকা,
১৩৭ মেগাওয়াট ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ২,৬১৭ কোটি টাকা,
৭৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪৫৬ কোটি টাকা,
২৫ মেগাওয়াট ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এ ১৭০ কোটি টাকা এবং
১২০ মেগাওয়াট লোয়ার কপিলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ২,৪১০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, লোয়ার কপিলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক উৎপাদন (ট্রায়াল কমিশনিং) পর্যায়ে প্রবেশ করে বর্তমানে প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। চলতি মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন জলবিদ্যুৎ ও পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প :
রাজ্যের কার্বি আংলং, পশ্চিম কার্বি আংলং, ওদালগুড়ি, ডিমা হাসাও, শিবসাগর এবং বিশ্বনাথ জেলায় মোট ১৩৭.২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১১টি নতুন ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কার্বি আংলং, পশ্চিম কার্বি আংলং এবং ডিমা হাসাও জেলায় মোট ৪,৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ সব প্রকল্পে প্রায় ২৭ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে বলে সরকার আশা করছে।
সৌরবিদ্যুৎ ও শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থায় জোর :
বাজেটে শোণিতপুরে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাউন্ড-মাউন্টেড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ডিব্রুগড়ের নামরূপে ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কামরূপ জেলায় ২৫ মেগাওয়াট/১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিমা হাসাওয়ে ‘নর্থ-ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড’ (নিপকো)-এর ৫০০ মেগাওয়াট পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প এবং গোয়ালপাড়ায় ৩০ মেগাওয়াট সমন্বিত সৌর ও ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪,৬০০ কোটি টাকা :
ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪,৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর অধীনে নির্মাণ করা হবে নতুন ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন করিডর এবং একাধিক গ্রিড সাব-স্টেশন।
আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে ১৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণ, ১২০টি নতুন সাব-স্টেশন স্থাপন এবং ২০ হাজার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিতরণ ট্রান্সফরমার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ অপচয় কমানোর লক্ষ্য :
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে ক্ষতির হার ১৩.৪ শতাংশ। আগামী দিনে তা কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস