
স্যাটেলাইট সিটি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ২,১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাজেটে
গুয়াহাটি, ১০ জুলাই (হি.স.) : গুয়াহাটির বড়ঝাড়ে অবস্থিতি লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্বমানের অ্যারোট্রোপলিস গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অসম সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, প্রস্তাবিত অ্যারোট্রোপলিসকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলা হবে। উত্তরপ্রদেশের নয়ডা, হরিয়ানার গুরুগ্রাম এবং পশ্চিমবঙ্গের নিউ টাউন কলকাতা-র আদলে পরিকল্পিত এই নগরায়ণ প্রকল্প ভবিষ্যতে অসমের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও নগরোন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অসমের পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং রাজ্যের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এ ধরনের আধুনিক উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি জানান, বিমানবন্দরের নিকটবর্তী ব্রহ্মপুত্রের ওপর নির্মীয়মাণ নতুন সেতু প্রকল্পটি এই অ্যারোট্রোপলিসের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করবে। এতে সামগ্রিক নগরোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গুয়াহাটি স্যাটেলাইট সিটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নামে রাজ্য সরকারের একটি স্পেশল পারপাস ভেহিকল গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অ্যারোট্রোপলিস প্রকল্পটি ১০০ শতাংশ রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন হবে। ফলে এই উন্নয়নের আর্থিক ও সামাজিক সুফল সরাসরি অসমের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
প্রস্তাবিত স্যাটেলাইট সিটিতে বিশ্বমানের পরিকাঠামো, শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, আধুনিক আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাসহ উন্নত সামাজিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হবে। সরকারের আশা, এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ২,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও করেন অর্থমন্ত্রী।
অসমের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে এই প্রকল্পের উল্লেখ করে জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, আধুনিক নগর ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই স্বপ্ন সফল করতে রাজ্যের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন প্রয়োজন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস