
হাফলং (অসম), ১০ জুলাই (হি.স.) : অসমের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ডিমা হাসাও জেলায় পর্যটকদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও বিপুল সংখ্যক পর্যটক হাফলং আসছেন। এই সকল পর্যটকদের সামনে জেলার বিভিন্ন জনজাতির সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের উদ্যোগে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ‘ডিমা হাসাও জনজাতীয় উৎসব–২০২৬’।
আজ বিকালে হাফলং লেকের পাশে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা। তিনি বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ জেলার বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি জানান, উৎসবে বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্পের সামগ্রী, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর তৈরি বিভিন্ন পণ্য এবং লোকসংস্কৃতির বর্ণাঢ্য পরিবেশনা থাকবে। পর্যটকরা এ সব পণ্য কেনার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগও পাবেন।
দেবোলাল গার্লোসা বলেন, ডিমা হাসাও আজ অসমের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। যদিও এখানে এখনও সাত-তারা পর্যটন সুবিধা নেই, তবুও জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মনোরম আবহাওয়া এবং জনজাতীয় সংস্কৃতি পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তিনি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ডিমা হাসাও ভ্রমণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন জনজাতির খাদ্য, হস্তশিল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে এ ধরনের উৎসবের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ডিমা হাসাওকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্ৰসঙ্গত উৎসবের সূচি অনুযায়ী, ১০ ও ১১ জুলাই হাফলং লেকে, ১৭ ও ১৮ জুলাই জাটিঙ্গা ও ‘আই লাভ ডিমা হাসাও’ পর্যটন কেন্দ্রে, ২৪ ও ২৫ জুলাই উমরাংসোর শঙ্খ গল্ফ কোর্সে এবং ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট ‘মিনি পাহেলগাম’ নামে পরিচিত জাতিঙ্গা পর্যটন কেন্দ্রে ‘ডিমা হাসাও জনজাতীয় উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে থাকবে বিভিন্ন জনজাতির ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের স্টল, পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী, হস্তশিল্প, আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়, এবং নানান জনজাতির লোকসংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব