
ইমফল, ১১ জুলাই (হি.স.) : মণিপুরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ শনিবার কুকি সম্প্রদায়ের এক বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন ইমফল পশ্চিম জেলার কান্তো সাবাল এলাকায় মেইতেই সম্প্রদায়ের পাঁচটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে পার্শ্ববর্তী কাংপোকপি জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী ইমফল পশ্চিম জেলা এবং কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমানা সংলগ্ন কান্তো সাবাল গ্রামের দিকে মিছিল করে যান। অভিযোগ, দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ মেইতেই সম্প্রদায়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর জেরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতে জর্জরিত এলাকায় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত, এই বাড়িগুলির সদস্যরা বর্তমানে ত্রাণ শিবিরের আবাসিক।
অগ্নিসংযোগের পর আশপাশের উপত্যকা এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ, সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের বাধা দেন। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আরও অশান্তি এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যতম এল বিজেতা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাড়িগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির কাছেই সেনাবাহিনীর একটি গ্যারিসন এবং একটি অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে। এর মধ্যে এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।
এল বিজেতা বলেন, ‘জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমার পরিবার একটি ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছে। আমাদের বাড়িটি তখন থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল, আমাদের সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে। কিন্তু সেই আশ্বাস সত্ত্বেও আজ আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বিজেতার আরও অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কান্তো সাবালের উপত্যকা সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করে, যেখানে বাস্তুচ্যুত মেইতেই পরিবারগুলি এখনও ফিরতে পারেনি। সেখানে তারা পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে আগুন লাগিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যায়। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন দেখতে পেয়ে নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার জন্য ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের বাধা দেয়।
আজকের এই ঘটনায় ইমফল উপত্যকা ও সংলগ্ন পাহাড়ি জেলার সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলিতে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ঘটনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অভিযোগ সম্পর্কে রাজ্য সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস