বিষ্ণুপুর পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ, গ্রেফতারি এড়াতে আত্মগোপনে পদত্যাগী পুরপ্রধানের অভিযোগ
বাঁকুড়া, ১১ জুলাই (হি.স.) : বিষ্ণুপুর পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন পালকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে। আগামী স
বিষ্ণুপুর পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ, গ্রেফতারি এড়াতে আত্মগোপনে পদত্যাগী পুরপ্রধানের অভিযোগ


বাঁকুড়া, ১১ জুলাই (হি.স.) : বিষ্ণুপুর পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন পালকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে। আগামী সোমবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এসে পৌঁছেছে। সম্প্রতি পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান-সহ অধিকাংশ তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় পুরসভার প্রশাসনিক কাজ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের বেতনও আটকে যায়। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন পুরবাসীরা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জোরদার হয়। প্রশাসক বসানোর নির্দেশ আসায় পুরকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের মধ্যেই স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এদিকে স্বজনপোষণ, অবৈধ নির্মাণে মদত, টোল আদায়ের অর্থ এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহার-সহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সদ্য পদত্যাগী পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই গৌতম গোস্বামীর খোঁজ মিলছে না। তিনি আত্মগোপন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মহকুমাশাসকের অভিযোগ, গৌতম গোস্বামী একাধিক আর্থিক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল পরিচালিত বিষ্ণুপুর পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে সরব হন স্থানীয় বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

গত মে মাসের শেষে ওই তদন্তকারী দল বিষ্ণুপুর পুরসভায় গিয়ে টানা দু'দিন ধরে আয়-ব্যয়ের সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে টোল আদায়ে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সের পর অবসরপ্রাপ্ত একাধিক কর্মীকে পুরবোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পুনরায় অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজে বহাল করা হয়েছে। এছাড়া পুর এলাকায় একাধিক বহুতল নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পত্তি কর মকুব-সহ একাধিক আর্থিক বেনিয়মেরও উল্লেখ রয়েছে।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মহকুমাশাসক গৌতম গোস্বামীর বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাবি ছিল যে বিষ্ণুপুর পুরসভায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকার সেই অভিযোগে কর্ণপাত করেনি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তদন্তে সেই সমস্ত অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর কথায়, নিজেকে বাঁচাতে বিদায়ী পুরপ্রধান পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এভাবে তিনি আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। তাঁকে দুর্নীতির জবাব দিতে হবে এবং আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande