দুর্গাপুরে ডিএসপি কারখানায় স্ল্যাগভর্তি ল্যাডেলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঠিকা শ্রমিকের
দুর্গাপুর, ১১ জুলাই (হি. স.) : আবারও রাষ্ট্রায়ত্ত স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের (সেইল) দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় (ডিএসপি) মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্ল্যাগভর্তি ল্যাডেলে পড়ে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নিরাপত্তা ন
দুর্গাপুরে ডিএসপি কারখানায় স্ল্যাগভর্তি ল্যাডেলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঠিকা শ্রমিকের


দুর্গাপুর, ১১ জুলাই (হি. স.) : আবারও রাষ্ট্রায়ত্ত স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের (সেইল) দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় (ডিএসপি) মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্ল্যাগভর্তি ল্যাডেলে পড়ে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক ঠিকা শ্রমিকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মীরা। কারখানার বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁরা মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও চাকরির দাবি জানান। শনিবার কারখানা চত্বরে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম শেখ শহিদুল (২৬)। তিনি দুর্গাপুরের আরতি গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার রাতের শিফটে ব্লাস্ট ফার্নেস বিভাগে কর্মরত অবস্থায় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি রড ভেঙে যাওয়ায় তিনি গরম স্ল্যাগভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যান। গভীর রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কারখানায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা গিয়ে তাঁর ঝলসে যাওয়া দেহ দেখতে পান। তাঁদের দাবি, দেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছিল যে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না।

ঘটনার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, মৃত শ্রমিকের পরিবারের একজন সদস্যকে অবিলম্বে অস্থায়ী চাকরি দিতে হবে, উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করারও দাবি জানান তাঁরা।

মৃতের সহকর্মী মনোজ রুইদাস বলেন, “আমরা দু’জনে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। আমি কিছুক্ষণ বাইরে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি শহিদুলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে জানতে পারি, সে ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছে। ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমি দেখিনি। তবে মনে হচ্ছে, কোনও রড ভেঙে যাওয়ায় সে নিচে পড়ে যায়।”

এই ঘটনার পর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানাকে কার্যত ‘মৃত্যুকূপ’ বলে অভিযোগ তুলেছে শ্রমিক মহল। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছরে একের পর এক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিকের প্রাণ গিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ডিএসপির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কারখানার বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (বিওএফ) প্ল্যান্টে কনভার্টার বিস্ফোরণে গলিত লোহা ছিটকে পাঁচ শ্রমিক গুরুতর আহত হন। ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর ব্লাস্ট ফার্নেস থেকে স্ল্যাগ বহনের সময় হট ল্যাডেল উল্টে গরম স্ল্যাগের নিচে চাপা পড়ে এক ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং আরও তিন শ্রমিক আহত হন। একই বছরের ১ মার্চ ল্যাডেল খালি করার সময় তরল স্ল্যাগ ছিটকে তিন ঠিকা শ্রমিক আহত হন। তারও আগে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসপির বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (বিওএফ)-এর রিফ্র্যাক্টরি বিভাগে কাজ করার সময় রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হয়ে তিন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও পাঁচ শ্রমিক।

পরপর এই দুর্ঘটনার জেরে কারখানার শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের নামে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও শ্রমিক অধিকার ছাড়াই বহু কর্মীকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করার ফলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

বিএমএস-সমর্থিত ডিএসপি ঠিকা মজদুর সংঘের ডিএসপি ইউনিটের সভাপতি অরূপ রায় বলেন, “আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছি। মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছি।”

ডিএসপির জনসংযোগ আধিকারিক বেদবন্ধু রায় বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande