বাঁকুড়ায় বিরল ‘রাবণ তাল’ সংরক্ষণের দাবি, আন্তর্জাতিক গবেষণায় মিলল স্বীকৃতি
বাঁকুড়া, ১১ জুলাই (হি.স.) : বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল ব্লকের লক্ষ্মীসাগর এলাকার জঙ্গলে থাকা বিরল বহু-মাথাওয়ালা তালগাছ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘রাবণ তাল’ নামে পরিচিত, এবার আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশেষ স্বীকৃতি পেল। গবেষকদের মতে, এই গাছগুলি অত্যন্ত বিরল হ
বাঁকুড়ার ব্যাতিক্রমী তালগাছ সংরক্ষণের দাবি


বাঁকুড়া, ১১ জুলাই (হি.স.) : বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল ব্লকের লক্ষ্মীসাগর এলাকার জঙ্গলে থাকা বিরল বহু-মাথাওয়ালা তালগাছ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘রাবণ তাল’ নামে পরিচিত, এবার আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশেষ স্বীকৃতি পেল। গবেষকদের মতে, এই গাছগুলি অত্যন্ত বিরল হাইফেন ডাইকোটোমা প্রজাতির। ফলে গাছগুলির সংরক্ষণে অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মাথাওয়ালা খেজুরগাছ দেখা গেলেও বহু-মাথাওয়ালা তালগাছ অত্যন্ত বিরল। বাঁকুড়ার লক্ষ্মীসাগরের জঙ্গলে থাকা এই প্রাচীন তালগাছগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। কেউ এগুলিকে ‘রাবণ তাল’, আবার কেউ ‘বহু-মাথাওয়ালা’ বা ‘শাখাওয়ালা তাল’ নামে চেনেন।

সম্প্রতি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, এ জে সি বোস ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র গবেষকদের যৌথ সমীক্ষায় এই গাছগুলিকে বিরল হাইফেন ডাইকোটোমা প্রজাতির বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা রিডিয়া-য় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক অমল কুমার মণ্ডল জানান, শতাধিক বছরের পুরনো এই গাছগুলির উপর দীর্ঘদিন ধরে সমীক্ষা, পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।

লক্ষ্মীসাগরের বাসিন্দা পশুপতি মাহাতো ও রতন সিংহ মহাপাত্র বলেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁরা এই গাছগুলি দেখে আসছেন। গ্রামের প্রবীণদের মুখে শুনে তাঁরা এগুলিকে ‘রাবণ তাল’ বলেই চিনতেন। বহুবার এই গাছের নিচে বসেও সময় কাটিয়েছেন।

লক্ষ্মীসাগরের আদিত্য মহান্তি এবং পার্শ্ববর্তী তরুপুর গ্রামের বাসিন্দা, বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন মাচাতোড়া পঞ্চায়েত সদস্য পিনাকী মহান্তি জানান, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘মাই ডিয়ার ট্রিজ অ্যান্ড ওয়াইল্ড’-এর সদস্যদের কাছ থেকে তাঁরা আগেই শুনেছিলেন, লক্ষ্মীসাগরের এই তালগাছগুলি বিরল প্রজাতির এবং পূর্ব ভারতে প্রায় অদ্বিতীয়। তাঁদের দাবি, এই প্রজাতির গাছ মূলত গুজরাত, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও দমন-দিউ অঞ্চলে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় স্বীকৃতি পাওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অনন্ত বাউরি বলেন, বহু মানুষ এই গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেন এবং বহু-মাথাওয়ালা আকৃতির কারণে কৌতূহল প্রকাশ করেন। তবে এতদিন এই গাছগুলির প্রকৃত গুরুত্ব সম্পর্কে কেউ সচেতন ছিলেন না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এগুলি লক্ষ্মীসাগরের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই সকলের উচিত গাছগুলির সংরক্ষণে এগিয়ে আসা।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি বিরল প্রজাতির গাছের নথিভুক্তিই নয়, বাঁকুড়ার প্রাকৃতিক ঐতিহ্যেরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)-এর তালিকায় হাইফেন ডাইকোটোমা অবলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। ফলে দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande