
মেদিনীপুর, ১১ জুলাই (হি.স.): পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে ট্রলারসহ নিখোঁজ হওয়া ১৫ জন মৎস্যজীবীর হদিশ মিলল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাঘেরচর দ্বীপের কাছে। শনিবার সকালে তাঁদের খোঁজ পাওয়া যায় এবং উদ্ধার হওয়া সমস্ত মৎস্যজীবীই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান এই মৎস্যজীবীরা। তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরিবার ও মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। অবশেষে শনিবার সকাল ৭টা নাগাদ তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য মেলে।
শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশরঞ্জন নায়ক জানান, ট্রলারের ইঞ্জিনে জল ঢুকে যাওয়ার কারণেই মৎস্যজীবীরা মাঝসমুদ্রে বিপদে পড়েছিলেন এবং ট্রলারটি বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে তাঁরা কাকদ্বীপের বাঘেরচর এলাকা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য শঙ্করপুর থেকে ইতিমধ্যে একটি লঞ্চ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে আরও একটি ট্রলার দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ১২-১৪ কিলোমিটার দূরে মাছ ধরার সময় একটি ট্রলারের তলা ফেটে জল ঢুকতে শুরু করে এবং সেটি সমুদ্রে ডুবে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হল, ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীকেই আশেপাশে থাকা অন্যান্য ট্রলারের মৎস্যজীবীরা তৎপরতার সঙ্গে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করেছেন।
উল্লেখ্য, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে গত ২ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও সমুদ্র উত্তাল থাকায় অধিকাংশ মৎস্যজীবীই ট্রলার নিয়ে বের হতে পারছেন না। ফলে ইলিশ মরশুমের শুরুতেই চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি