
কলকাতা, ১১ জুলাই (হি.স.): বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরো রাজ্য জুড়ে বেআইনি মদ, গাঁজা, চরস সহ সমস্ত রকমের মাদক ঠেকগুলির বিরুদ্ধে আগামী দুই সপ্তাহ ব্যাপী এক বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ধরণের জঘন্য অপরাধের পিছনে মাদক ও অবৈধ ঠেকগুলির বড় ভূমিকা থাকে, তাই এগুলিকে গোড়া থেকে নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার সূর্যপুরে নবনির্মিত স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতা নাবালিকা এবং গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। দুই পরিবারকেই সব ধরনের সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।
রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, আগামী দুই সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে এই বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের অতিরিক্ত ব্যাটালিয়ন এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োজিত করতে হবে, যাতে রাজ্যের কোথাও কোনও অবৈধ মদ বা মাদকের ঠেক সচল না থাকতে পারে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী আবেদন জানান, কোথাও এই ধরণের বেআইনি কার্যকলাপ চোখে পড়লে অবিলম্বে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, কেবল রেল স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ডের মতো জায়গায় অভিযান চালালেই হবে না, গ্রামীণ এলাকা থেকেও এই সামাজিক ব্যাধি সম্পূর্ণ দূর করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মকে মাদকের মরণ থাবা থেকে রক্ষা করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সীমান্ত এলাকাগুলিতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স লাগাতার মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে, এবার গ্রাম স্তরেও একই রকম কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী গণপিটুনিতে নিহত নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন। এর পাশাপাশি, নিহতের বড় ভাইকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর নিয়োগ করা হয়েছে সূর্যপুরে নবনির্মিত এই স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িতেই।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকেও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে সংবেদনশীলতার খাতিরে সেই সহায়তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি প্রকাশ করতে চাননি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবার যদি মনে করে তবে তারা নিজেরা এই তথ্য জনসমক্ষে আনতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে এই নতুন পুলিশ ফাঁড়িটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি