পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প-অনুকূল রাজ্য গড়ার লক্ষ্য, বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা, ১১ জুলাই (হি.স.): গুজরাট এবং তামিলনাড়ুর মতো পশ্চিমবঙ্গকেও দেশের অন্যতম শিল্প-অনুকূল রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একাধিক বড়সড় ঘোষণাও করেছেন তিনি। হুগলি জ
বহরমপুরে আয়োজিত প্রশাসনিক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী


কলকাতা, ১১ জুলাই (হি.স.): গুজরাট এবং তামিলনাড়ুর মতো পশ্চিমবঙ্গকেও দেশের অন্যতম শিল্প-অনুকূল রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে একাধিক বড়সড় ঘোষণাও করেছেন তিনি। হুগলি জেলার ডানকুনিতে ‘লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য জমির কোনো অভাব হতে দেওয়া হবে না এবং প্রশাসনিক স্তরের সমস্ত জটিলতা ও বাধা দূর করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার ২০১৩ সালের জমি ক্রয় নীতি অনুযায়ী কাজ করছে এবং তারা সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি একেবারেই চায় না। তিনি জানান, সরকার ‘সরাসরি জমি ক্রয় নীতি’ কার্যকর করেছে। এই নীতির অধীনে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার নিজেই জমি কিনে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেবে। এই একই নীতি মেনে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ), রেল এবং নতুন বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির জন্যও জমি সরবরাহ করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, রাজ্যে বিনিয়োগে ইচ্ছুক শিল্পপতিদের জমি পাইয়ে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার নিজের কাঁধে নেবে, যাতে কোনো রকম বিতর্ক ছাড়াই শিল্প প্রকল্পগুলি দ্রুত শুরু করা যায়।

বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে আর একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যে সমস্ত শিল্পে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হবে, সেগুলির ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা বা পুরনিগম থেকে আলাদা আলাদাভাবে অনুমতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন থাকবে না। স্থানীয় স্তরে কাজের গতি শ্লথ হওয়া, অহেতুক হস্তক্ষেপ এবং হয়রানি বন্ধ করতেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই ধরনের সমস্ত বড় বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলিকে উইন্ডো সিস্টেম’ -এর মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার অধীনে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম (ডব্লিউবিআইডিসি), ভূমি দফতর এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ একই মঞ্চ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অনাপত্তি শংসাপত্র (এনওসি) প্রদান করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্পের জন্য একটি স্বচ্ছ, দ্রুত এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পুঁজি আকর্ষণ করবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande