
মেদিনীপুর, ১১ জুলাই (হি. স.) : নিজের দুই নাবালিকা মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে এক পাষণ্ড পিতাকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক জেলা আদালতের বিশেষ পকসো কোর্ট। শুক্রবার বিচারক সুস্মিতা মুখোপাধ্যায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ধৃত ব্যক্তিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে, নির্যাতিতা দুই বোনের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা দুই নাবালিকার মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এই সুযোগ নিয়ে তাদের পিতা দিনের পর দিন দুই মেয়ের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাত। লোকলজ্জা আর বাবার হুমকির ভয়ে প্রথমে তারা মুখ খোলেনি। কিন্তু অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে, অবশেষে ২০২২ সালের মে মাসে ছোট বোন সাহস জুটিয়ে প্রতিবেশী এক দূর সম্পর্কের মামাকে সব কথা খুলে বলে। এরপর ওই ব্যক্তি নাবালিকাকে সঙ্গে নিয়ে কোলাঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার বহু বছর আগেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে ভিন রাজ্যে পালিয়ে যায়। প্রায় দুই বছর গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর পরিস্থিতি শান্ত হলে সে আবার বাড়ি ফিরে আসে এবং পুনরায় ছোট মেয়ের ওপর একই অত্যাচার শুরু করে।
কোলাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ আদালতে অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পেশ করে।
সরকারি আইনজীবী অস্মিতা দাস খাঁড়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। রায়ের পর তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে মামলাটির তদন্ত করেছেন। প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা—প্রতিটি পদক্ষেপে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই এত দ্রুত এই মামলার রায়দান সম্ভব হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি