
পশ্চিম বর্ধমান, ১১ জুলাই (হি.স.): আগামী ২১ জুলাই কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশকে সফল করতে কোমর বেঁধে নামছে আসানসোলের ঘাসফুল শিবির। শনিবার আসানসোলের রাহা লেন স্থিত দলীয় কার্যালয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসভা ও সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোলের সাংসদ কীর্তি আজাদ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক, প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিং সহ জেলা স্তরের একাধিক শীর্ষনেতা ও কর্মীবৃন্দ। শহিদ দিবসের প্রস্তুতির পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটার তালিকা সংশোধন ও আগামী দিনের সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসানসোলের সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত আবেগের একটি দিন। কলকাতার সমাবেশকে ঐতিহাসিক করে তুলতে আসানসোল সহ গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থক যোগ দেবেন।
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিশেষ পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এ রাজ্যের ২৫ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। গরিব, শ্রমিক, মৎস্যজীবী ও মহিলাদের অধিকারের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ চলছে এবং সরকারি সুবিধা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখেই তৃণমূল আগামী দিনে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে জানান তিনি।
২০২৬-এর ভোট শতাংশ ও ২০২৯-এর লক্ষ্য
সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, আসানসোল মহকুমায় তৃণমূল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। কিছু মানুষ দল ছেড়ে চলে গেলেও তাতে দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। শনিবার সকালে রাহা লেনের দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বৈঠক বানচালের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটে।
বিগত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, সে সময় তৃণমূল ও বিজেপির ভোট শতাংশে খুব বেশি ফারাক ছিল না। তৃণমূল প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং বিজেপি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তবে বর্তমান কর্মীদের উৎসাহ প্রমাণ করছে যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল মহকুমা থেকে বিজেপি সম্পূর্ণ সাফ হয়ে যাবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে হাওয়া বইছে। ২০২৯-এ কেন্দ্রেও আর বিজেপি সরকার গড়তে পারবে না এবং নরেন্দ্র মোদীও আর প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। বিজেপি সংসদকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজেপির রাজনীতি পুলিশের ওপর নির্ভরশীল
রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বাংলায় বিজেপির রাজনীতি এখন পুলিশের ওপর ভর করে চলছে। বিরোধী কর্মীদের হেনস্থা এবং দলীয় কার্যালয়গুলির ওপর প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীকে তোপ দেগে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর যারা দলবদল করেছেন, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন। এই দলবদলু নেতারা আজ নিজেদের এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন, কোনো জনসভাও করতে পারছেন না কারণ সাধারণ মানুষ ও পুরনো কর্মীরা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিজেপির পুরনো কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপিতে এখন আদি কর্মীদের অবহেলা করে বহিরাগতদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সেই কারণেই বিজেপির বহু আদি কর্মী ও সমর্থক ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন এবং আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি