অভিন্ন দেওয়ানি বিধি খসড়া পর্যালোচনায় ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
কলকাতা, ১১ জুলাই (হি.স.) : অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল-২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য রাজ্য সরকার গঠিত ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশ
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই


কলকাতা, ১১ জুলাই (হি.স.) : অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল-২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনার জন্য রাজ্য সরকার গঠিত ৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে বাকি আট জন সদস্যের নাম সম্প্রতি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই কমিটি খসড়া বিলটি খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করে তাদের সুপারিশ পেশ করবে এবং সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত বিলটি প্রস্তুত করা হবে।

কমিটিতে বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই ছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, দিল্লিতে নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের রেসিডেন্ট কমিশনার দুশ্যন্ত নারিয়ালা, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, নৃবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রত্না ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক গোপালচন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী উসমান গনি মালিক এবং বেঙ্গল বিভাগের প্রাক্তন কার্যকরী অধিকর্তা নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

আগামী অগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। গত ২ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ইউসিসি বিলের খসড়াকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সরকার জানিয়েছে, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং সম্পত্তির অধিকার—এই সমস্ত বিষয়ে সকল নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো গড়ে তোলাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে দীর্ঘদিনের চলে আসা ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের জটিলতা দূর হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত এই আইনের আওতা থেকে রাজ্যের তফসিলি উপজাতি (এসটি), মূল বাসিন্দা সম্প্রদায়, কুর্মি এবং অন্যান্য প্রাচীন জনজাতিদের সম্পূর্ণভাবে বাইরে রাখা হবে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে এই জনজাতিগুলোর নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রথা ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ থাকে।

সম্প্রতি সম্পন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা। নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একাধিক জনসভায় ইউসিসি-র প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকার অতি দ্রুততার সঙ্গে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এই বিল বিধানসভায় পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং অসমের পর চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গও ইউসিসি কার্যকর করার পথে এগিয়ে যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande