
হাওড়া, ১১ জুলাই (হি. স.) : রাজ্যে 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের আমলে বিনিয়োগের এক বড়সড় জোয়ার এল বাংলায়। এবার পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করল দেশের অন্যতম প্রধান বস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থা লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজ। ডানকুনিতে সংস্থার দ্বিতীয় ইউনিটের কারখানা সম্প্রসারণের জন্য বাংলায় ৬০০ কোটি টাকার মেগা লগ্নি আসতে চলেছে। ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে গড়ে উঠতে চলা এই নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার ডানকুনির এই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছনোর পর প্রথমে গো-মাতার সেবা (গো-পূজা) করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তিনি মূল শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং।
মুখ্যমন্ত্রী ও বিশিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে এই নতুন শিল্প ইউনিটের শুভ সূচনা করেন লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা অশোক টোডি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের মন্ত্রীদের উত্তরীয় প্রদান করে এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।
এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের এক নতুন দিশা ও রূপরেখা তুলে ধরেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। পূর্বতন সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন যে, বাংলায় এবার শিল্পের দীর্ঘ খরা কাটবে এবং নতুন করে রাজ্যের বুকে শিল্পের জোয়ার ফিরে আসবে। অতীতে বহু শিল্পপতি বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁদের বাংলায় ফিরিয়ে আনতে যা যা করণীয় সরকার তাই করবে। প্রয়োজনে তাঁদের হাত-পা ধরে অনুরোধ করে বাংলায় ফিরিয়ে আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘাম ও রক্ত এক করে তাঁরা কাজ করবেন এবং এই সরকারের লক্ষ্য একটাই—বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের আর কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে যেতে হবে না, রাজ্যেই কর্মসংস্থান হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের শিল্প ভাবনার স্বপক্ষে সওয়াল করেন। তিনি জানান যে, সরকার রাজ্যে প্রকৃত বিনিয়োগ ও শিল্প চায়। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের স্বার্থে এবং কারখানায় যাতে শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তার জন্য সরকার নিরলস কাজ করে চলেছে। বাম ও তৃণমূলের বিগত ৫০ বছরের শাসনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন যে, গত ৫০ বছর ধরে এই রাজ্য নির্দিষ্ট কিছু দল শাসন করেছে। শুভেন্দুর নেতৃত্বে এখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গড়ে উঠেছে এবং বিগত দিনে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলির দরজা খোলার চাবি এখন তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর হাতে রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি