
ঝাড়গ্রাম, ১২ জুলাই (হি.স.) : প্রায় ৬৫টি হাতির একটি বিশাল দল এলাকায় প্রবেশ করায় ঝাড়গ্রামে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রবিবার ভোরে জাতীয় সড়ক পার হয়ে হাতির দলটি লোধাশুলি রেঞ্জে প্রবেশ করে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দলে একাধিক শাবকও রয়েছে। বর্তমানে হাতির দলটি লোধাশুলি রেঞ্জের পেনিয়াভাঙা জঙ্গলে অবস্থান করছে। একসঙ্গে এত বড় হাতির দল এলাকায় ঢুকে পড়ায় বন দফতরের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই সময় জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় ধানের চারা রোপণের কাজ চলছে। ফলে হাতির দল চাষের জমিতে ঢুকে পড়লে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। অতীতেও এই এলাকায় হাতির হানায় কৃষিজমি ও গ্রামীণ সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বন দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে হাতির দলটি কলাইকুন্ডা রেঞ্জের বারডাঙ্গা এবং মানিকপাড়া রেঞ্জের বরাশুলি এলাকায় বিচরণ করছিল। রবিবার ভোরে বরাশুলি জঙ্গল থেকে কুয়াড়িখাল পেরিয়ে তারা লোধাশুলি-রগড়া সড়ক অতিক্রম করে। পরে জামুয়া জঙ্গল হয়ে ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়ক পার করে পেনিয়াভাঙা জঙ্গলে প্রবেশ করে। পুরো পথজুড়েই বনকর্মীরা হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালান।
বন আধিকারিকদের আশঙ্কা, এত বড় হাতির দল যদি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলে ঢুকে পড়ার ঝুঁকিও বাড়বে। তাই হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা না দিয়ে নিরাপদ পথে এগিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, হাতির দলটি যদি পুকুরিয়া এলাকার দিকে স্বাভাবিকভাবে এগোয়, তবে তারা ডুলুং নদী পেরিয়ে গিধনি রেঞ্জের আমতলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যেতে পারে। তবে বন দফতরের অনুমান, দলটি আবার কলাইকুন্ডা রেঞ্জের দিকেও ফিরে যেতে পারে।
বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “হাতির দলের উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জোর করে হাতির গতিপথ পরিবর্তনের কোনও চেষ্টা করা হবে না।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো