'তৃণমূলের ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই, সবই এক', দুর্গাপুরে অগ্নিমিত্রা পাল
দুর্গাপুর, ১২ জুলাই (হি. স.) : “কোনটা ভালো তৃণমূল, কোনটা খারাপ তৃণমূল— আমার কাছে সেই সংজ্ঞা পরিষ্কার নয়। ২০২১ সালে আমাদের কর্মীদের কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল, ১০ হাজারেরও বেশি মহিলা ঘরছাড়া হয়েছিলেন, বহু মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তখন ভা
'তৃণমূলের ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই, সবই এক', দুর্গাপুরে অগ্নিমিত্রা পাল


দুর্গাপুর, ১২ জুলাই (হি. স.) : “কোনটা ভালো তৃণমূল, কোনটা খারাপ তৃণমূল— আমার কাছে সেই সংজ্ঞা পরিষ্কার নয়। ২০২১ সালে আমাদের কর্মীদের কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল, ১০ হাজারেরও বেশি মহিলা ঘরছাড়া হয়েছিলেন, বহু মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তখন ভালো-খারাপ সব তৃণমূলই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, কেউ প্রতিবাদ করেনি। তৃণমূল মানেই অত্যাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নীতিহীন দল।” রবিবার দুর্গাপুরে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ‘ভালো তৃণমূল’ মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে তৃণমূলের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদের বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রবিবার দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “তৃণমূলের ভালো-খারাপ বলে কিছু হয় না। ২০২১ সালের ঘটনার সময় সব তৃণমূল নেতাই নীরব ছিলেন। তাই আমার কাছে সব তৃণমূলই এক।”

তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল মানেই অত্যাচার, দুর্নীতি, নীতি-আদর্শহীন রাজনীতি। তৃণমূল মানেই ডিয়ার লটারি, অবৈধ মদের ব্যবসা, জলাজমি ভরাট, অন্যের জমি কারচুপি করে দখল করা। বিধানসভায় দেখি, এক তৃণমূল বসে আছে, আর এক তৃণমূল রাগ করে আলাদা হয়ে আছে।”

লেক টাউনের সাম্প্রতিক ধর্ষণকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। আগে ধর্ষণের ঘটনায় বিচার হত না। আমাদের সরকার আসার পর বিচার হচ্ছে এবং দোষীরা শাস্তিও পাবে।”

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করালে কারও হাত, কারও পা বাদ যেতে পারে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্র্যান্ডিং করার জন্য এই কর্মসূচি করা হয়েছিল। বাংলার মানুষ সেই জবাব ভোটে দিয়ে দিয়েছেন।”

২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মন্তব্য প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “কাকলি ঘোষ দস্তিদার কী বলছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি কখন কী বলেন, সম্ভবত নিজেও বোঝেন না। কখনও আমাকে অপমান করেন, আবার কখনও বলেন আমার কাছ থেকে শাড়ি কিনবেন। তাই তাঁর মন্তব্যকে আমি গুরুত্ব দিই না।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande