আলমবাজারে সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের সফল সমাপনী, শুরু হচ্ছে আরও ৪টি নতুন কার্যক্রম
দক্ষিণেশ্বর, ১২ জুলাই (হি.স.) : সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলমবাজারে সফলভাবে সম্পন্ন হলো দশ দিনের সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির। ‘সংস্কৃত ভারতী’ দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানটি রবিবার আলমবাজার ঘাট সেবা
আলমবাজারে সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির


দক্ষিণেশ্বর, ১২ জুলাই (হি.স.) : সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আলমবাজারে সফলভাবে সম্পন্ন হলো দশ দিনের সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির। ‘সংস্কৃত ভারতী’ দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানটি রবিবার আলমবাজার ঘাট সেবা কেন্দ্র ও পুস্তকালয়ে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।

গত ৩০ জুন আলমবাজার গঙ্গার ঘাটে এই শিবিরের সূচনা হয়েছিল। ১০ দিনের এই নিবিড় প্রশিক্ষণে সমাজ ও পেশার বিভিন্ন স্তরের মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, পুরোহিত, ব্যাস (কথক) ও চাকরিজীবী, তেমনই ছিলেন গৃহবধূ ও প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীরা। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে সংস্কৃতের জনপ্রিয়তা ও সর্বজনগ্রাহ্যতা দিন দিন বাড়ছে।

নজর কাড়ল শিক্ষার্থীদের সংস্কৃত সম্ভাষণ

সমাপনী অনুষ্ঠানে শিবিরের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ সংস্কৃত ভাষায় সংলাপ, সম্ভাষণ ও বিভিন্ন মননশীল পরিবেশনার মাধ্যমে তাঁদের অর্জিত দক্ষতার পরিচয় দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষিকা তথা ‘সংস্কৃত গৃহিণী’ হিসেবে পরিচিত ডঃ মৌমিতা বর। তিনি নিজের সন্তানকে প্রথম ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শেখানোর অনন্য অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সংস্কৃত চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। শিক্ষার্থীরাও শিবিরে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত সংস্কৃতে কথা বলার অঙ্গীকার করেন।

চালু হলো ৪টি নতুন নিয়মিত কার্যক্রম

সংস্কৃত চর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এদিন দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে ৪টি নতুন নিয়মিত কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়। এগুলি হলো সাপ্তাহিক সংস্কৃত মাতৃশক্তি মিলন, সাপ্তাহিক সংস্কৃত বালকেন্দ্র, সাপ্তাহিক গীতাচর্চাকেন্দ্র, ঝোলা পুস্তকালয়।

অনুষ্ঠানের শেষে সকল অংশগ্রহণকারী গঙ্গাতীরে সমবেত হয়ে গঙ্গাদর্শন করেন এবং সংস্কৃতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। সবশেষে একটি যৌথ স্মারক আলোকচিত্র গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সংস্কৃত ভারতী, দক্ষিণেশ্বর চর্চাকেন্দ্রের পালক শ্রী যুগল ঘোষ জানিয়েছেন, সংস্কৃতকে দৈনন্দিন জীবনের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে আগামী তিন মাসে আরও তিনটি সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির করা হবে। আগ্রহীরা ৯৮৩১৪৬৩৫৩৯ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande