
লেনিন, মাও, গেভারাদের সহিংস দর্শনকে কখনও মেনে নেবে না অসম : রঞ্জীব শর্মা
গুয়াহাটি, ১৩ জুলাই (হি.স.) : ‘‘রাজ্যের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে কংগ্রেস সহ সমস্ত বিরোধী দল এবং একাংশ তথাকথিত বুদ্ধিজীবী (বামপন্থী মনোভাবাপন্ন) গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। ব্যাপক অপপ্রচারের মাধ্যমে অরাজকতা ছড়িয়ে সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে ‘ইকো সিস্টেম' চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস।’’ মন্তব্য অসম প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীব কুমার শর্মার।
আজ সোমবার দলের প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত সাংবাদিত সম্মেলন বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রঞ্জীব কুমার শর্মা আরও বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে কংগ্রেস ইকো সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত একাংশ মানুষ অরাজক ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সমগ্র উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের নেতিবাচক প্রচেষ্টা কখনও সফল হবে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই অসমের জনগণ গত বিধানসভা নির্বাচনে এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র শর্মা বলেন, লুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা লেনিন ও স্ট্যালিন, চীনের মাও সে তুং এবং কিউবার চে গেভারার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অসমের সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করার যে চেষ্টা একাংশ মানুষ করছেন, তা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে, লেনিন ও স্ট্যালিন ১৯২০ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন, মাও সে তুং ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে চীনে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং চে গেভারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা কার্যত মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শংকরদেবের গড়ে তোলা বৃহত্তর অসমের সনাতন ভিত্তিকেই অস্বীকার করছে। ‘কুকুর, শৃগাল, গর্দভেরও আত্মা আছে, জেনে সকলকেই প্রণাম করো’, এই বাণীর মাধ্যমে গুরুদেব শ্ৰীমন্ত শংকরদেব বহু আগেই আমাদের একাত্ম মানবদর্শনের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাই মানবহত্যার রক্তাক্ত ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণকারীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট প্রিয়াঙ্কা তামুলির উপস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমকে সম্বোধন করে রঞ্জীব কুমার শর্মা আরও বলেন, অসমের খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র) সমাজ শিল্প বা সংস্কৃতির নামে সহিংসতা এবং সহিংস চিন্তাধারাকে কখনও প্রশ্রয় দেয় না এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস