
গুয়াহাটি, ১৩ জুলাই (হি.স.) : অসমের ভোটার তালিকায় বর্তমানে ৯১ হাজার ৩৮৫ জন ‘ডি-ভোটার’ (ডাউটফুল ভোটার বা সন্দেহভাজন ভোটার) রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক ডি-ভোটার রয়েছেন শোণিতপুর জেলায়, বিধানসভায় এ তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ সোমবার অসম বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিন কংগ্রেস বিধায়ক নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গৃহ ও রাজনৈতিক দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা জানান, শোণিতপুরে ডি-ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৭১৯। এর পরেই বরপেটা। বরপেটায় ডি-ভোটারের সংখ্যা ৮ হাজার ৮১। এছাড়া ওদালগুড়ি এবং নগাঁও, উভয় জেলায় ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি ডি-ভোটার রয়েছেন।
গৃহ ও রাজনৈতিক দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব জানান, ভোটারদের ‘ডি’ বা সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ১৯৯৭ সাল থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে অসমে চালু রয়েছে। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই শ্রেণিভুক্ত করা হয়।
তিনি জানান, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭২৮ জন ডি-ভোটারকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এঁদের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া ৮৩১ জনের ক্ষেত্রেও আদালত বিদেশি ঘোষণার রায় বহাল রেখেছে।
অন্যদিকে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ৬৫ হাজার ১৭১ জন ডি-ভোটারকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া গৌহাটি হাইকোর্ট ৪২ জন এবং সুপ্রিম কোর্ট তিনজনকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কংগ্রেস বিধায়ক ওয়াজেদ আলি চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৭ সালে ডি-ভোটার ব্যবস্থা চালুর সময় অসমে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৬ জন ডি-ভোটার ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৪৪টি ডি-ভোটার মামলা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ৫ হাজার ৬৫৯টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ৭২৮ জনকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে।
ডি-ভোটার সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি সীমান্ত পুলিশ এক লক্ষ ৯০ হাজার ৬৫৭টি সন্দেহভাজন বিদেশির মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে এক লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৯০টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এক লক্ষ ১৫ হাজার ৯৪৫ জনকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ৭৮৯ জন ঘোষিত বিদেশিকে অসম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘ডি-ভোটার’ ধারণাটি ১৯৯৭ সালে কেবলমাত্র অসমের জন্য নির্বাচন কমিশন চালু করেছিল। ডি-ভোটার হিসেবে চিহ্নিতরা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এবং প্রয়োজনে উচ্চতর আদালতে তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণ না করা পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস