
গুয়াহাটি, ১৩ জুলাই (হি.স.) : ‘বিকশিত ভারত গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা ও জীবিকা অভিযান’, সংক্ষেপে ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে অসম জাতীয় মাইলফলক স্থাপন করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার (এফটিও) তৈরিকৃত দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে অসম।
পাশাপাশি, জবকার্ডধারী শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান, সরবরাহকারীদের সামগ্রীর অর্থ পরিশোধ এবং প্রশাসনিক খরচের অর্থ প্রদান সফলভাবে সম্পন্নকারী দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবেও অসম আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং অসমের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী অতুল বরার নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ ডিব্রুগড় জেলার টিংখং উন্নয়ন খণ্ডের নির্বাচিত গ্রামগুলিতে এই প্রকল্পের অর্থ অনুমোদন ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সূচনা করেছে।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে আয়ের নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের জন্য গ্রামীণ রোজগার কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত ব্যবস্থার সাহায্যে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সরলীকরণ করে দ্রুত এবং সরাসরি মজুরি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ (মনরেগা)-এর অধীনেও অসম ইতিমধ্যে কিউআর কোডযুক্ত স্মার্ট কার্ড চালু করে স্বচ্ছ ও সফল পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের তথ্য সংরক্ষণ, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, দ্রুত তথ্য যাচাই এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এই প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন, জল সংরক্ষণ এবং কর্মস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার মতো সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পুকুর খনন, রাস্তা নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত অধিকাংশ কাজ সরাসরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এভাবেই গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস