

।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকা সহ দেশব্যাপী নয় দিনব্যাপী উৎসব শুরু হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশে ইসকন-এর উদ্যোগে মোট ১২৮টি রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, ভারতের পুরীর ঐতিহাসিক রথযাত্রার পর ঢাকার ইসকন-এর রথযাত্রাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।
আজ সোমবার রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮-টায় স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি কামনায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। বিকাল ৩-টায় শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথ স্বামীবাগ মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করবে এবং জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহিদ মিনার ও পলাশীর মোড় অতিক্রম করে সন্ধ্যা প্রায় ৭-টায় শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পৌঁছবে।
আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা। সেদিন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে একই পথে রথটি স্বামীবাগ মন্দিরে ফিরে আসবে।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা :
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ইসকন-এর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইসকন-এর নিজস্ব প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন।
মতবিনিময় সভায় ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বারৈ, কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলাপ্রসাদ দাস, হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস এবং শুভ নিতাই দাস উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা :
আয়োজকরা জানান, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্যের এক অনন্য প্রতীক। 'জগন্নাথ' শব্দের অর্থ 'জগতের নাথ' বা 'বিশ্বের প্রভু'। তাঁর কাছে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, ধনী-দরিদ্রের কোনও ভেদাভেদ নেই। তাই জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক ঐক্য ও সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে।
সভায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এই অনুষ্ঠান সফল করতে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
ইসকন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশবাসীর জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নেমে আসবে এবং বাংলাদেশ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস