
বাঁকুড়া, ১৩ জুলাই (হি.স.) : বাঁকুড়ায় তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিককে রবিবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাঁকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। গত ৩০ মার্চ স্থানীয় এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার তথ্য-প্রমাণ লোপাট করা এবং মৃতার পরিবারকে পাত্রসায়ের থানায় অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পূরবী দেবীর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, পূরবী দেবী তৃণমূলের নেত্রী ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি তাঁর স্বামী সুব্রত দত্ত দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হওয়ার কারণে এলাকায় তাঁর দাপট ছিল তুঙ্গে। ভয়ে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারতেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত ৩০ মার্চ, ২০২৬ পাত্রসায়েরে এক নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেসময় অভিযোগের আঙুল ওঠে স্থানীয় স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা রহিত মল্লিক ও তাঁর মা রূম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। মৃত নাবালিকার পরিবারের লোকেরা পাত্রসায়ের থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে চাইলেও পূরবী দেবী নিজের প্রভাব খাটিয়ে তা করতে দেননি বলে অভিযোগ। এমনকি প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া সত্ত্বেও ময়নাতদন্ত করতে না দিয়ে তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাজ্যে সরকার বদলের পর মৃতার পরিবার পাত্রসায়ের থানায় নতুন করে অভিযোগ জানালে পুলিশ রহিত মল্লিক ও রূম্পা মল্লিককে শনিবার গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই ঘটনায় পূরবী দেবীর নাম উঠে আসে। তিনি যে সরাসরি এই বিষয়ে যুক্ত ছিলেন, তা ধৃতরা স্বীকার করে। এরপর রবিবার রাতে পূরবী দেবীকে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট