কাটাখালের বাঁধে ভাঙন, যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, আতঙ্কে ভাটি অভয়নগর-প্রগতি স্কুল এলাকার বাসিন্দারা
আগরতলা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : টানা ভারী বর্ষণের জেরে আগরতলায় গুরুত্বপূর্ণ কাটাখালের বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভাটি অভয়নগর থেকে প্রগতি স্কুল পর্যন্ত বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর
কাটাখালের বাঁধে ভাঙন


আগরতলা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : টানা ভারী বর্ষণের জেরে আগরতলায় গুরুত্বপূর্ণ কাটাখালের বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভাটি অভয়নগর থেকে প্রগতি স্কুল পর্যন্ত বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালানো হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন ধরে মৌসুমী বায়ু প্রবাহের সক্রিয়তার ফলে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সর্বাধিক ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন নদী-খাল ও জলাশয়ের জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কাটাখালের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গা চৌমুহনী থেকে প্রগতি স্কুল পর্যন্ত বাঁধের একাধিক স্থানে মাটি ধসে পড়ছে এবং কোথাও কোথাও ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলিতে বালির বস্তা ফেলে প্রাথমিকভাবে মেরামতির কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং জলস্তর ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিন জেলা প্রশাসনের জনৈক আধিকারিক জানান, প্রবল বর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান জলচাপের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভূমিধস ও ভাঙনের ঘটনা ঘটছে। জননিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত এই বাঁধের উপর দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

অন্যদিকে, কাটাখালের দক্ষিণ অংশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং বাঁধের ভাঙন আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। ফলে প্রশাসনের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানমূলক পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষ।

জেলা প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande