
- সিদ্ধান্ত সরকারের নিজস্ব, কোনও বিধায়কের অনুরোধে নয়, নতুন রাজস্ব সার্কল গঠনের কৃতিত্ব কাউকে দাবি না করার আহ্বান হিমন্তের
গুয়াহাটি, ১৪ জুলাই (হি.স.) : রাজ্যে রাজস্ব প্রশাসন ও জনসেবা আরও উন্নত করতে ১৪টি নতুন সার্কল অফিস (সিও) স্থাপনের মাধ্যমে প্রশাসনিক পরিষেবা সম্প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার, আজ মঙ্গলবার বিধানসভায় এ কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
চলতি বাজেট অধিবেশনের আজ মঙ্গলবার সপ্তম দিন এই ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন রাজস্ব সার্কল অফিস স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। বিধানসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ড. শর্মা বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পঞ্চায়েতের সীমানার মতো রাজস্ব সার্কলের প্রশাসনিক সীমাও সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানার মধ্যে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বহু রাজস্ব সার্কলের সীমা একাধিক বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে বিস্তৃত থাকায় প্রশাসনিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সংস্কার কার্যকর করতে সরকার ইতিমধ্যে যে সব বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় কোনও রাজস্ব সার্কল নেই, সেগুলির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজস্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি রাজ্যের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সার্কল অফিসের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে তৃণমূল স্তরে দ্রুত পরিষেবা প্রদান এবং জনসাধারণের সমস্যার আরও কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে, বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা আরও বলেন, নতুন সার্কল অফিসগুলি চালু হলে বর্তমান সার্কল অফিসগুলির ওপর কাজের চাপ কমবে। এর ফলে রাজস্ব বিভাগের কার্যক্ষমতা ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় পরিষেবা পেতে পারবেন।
তিনি জানান, এই পুনর্গঠনের আওতায় রাজ্যের ১০৮টি বিধানসভা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে বর্তমান রাজস্ব সার্কলের সীমানার কারণে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বর্তমানে রাজস্ব সার্কলবিহীন ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্র প্রত্যেকটি একটি করে নতুন সার্কল অফিস পাবে।
নতুন রাজস্ব সার্কেলগুলি হবে মধ্য গুয়াহাটি, পকাবেতবাড়ি, চেঙ্গা, সৃজনগ্রাম, বরসিং জারুয়া, খোয়াং, জলেশ্বর, নাওবৈচা, ডিগবয়, মাকুম, গোয়ালপাড়া, রঙাপাড়া, বরখলা (কাছাড়) এবং বিহালিতে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিয়েছে, কোনও বিধায়কের অনুরোধের ভিত্তিতে নয়। তিনি বিধায়কদের এই নতুন রাজস্ব সার্কল গঠনের কৃতিত্ব দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংস্কার শুধুমাত্র উন্নত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস