
গুয়াহাটি, ১৪ জুলাই (হি.স.) : অসম বিধানসভায় ৩০১ নম্বর বিধি বলে আজ মঙ্গলবার রাজ্যের ছয় জনগোষ্ঠীকে তফশিলি জনজাতি (এসটি)-র মর্যাদা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করে বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বিধানসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ওয়াজেদ আলি চৌধুরী বলেন, চা-জনগোষ্ঠী, কোচ-রাজবংশী, মোরান, মটক, আহোম এবং চুতিয়া জনগোষ্ঠী বহু বছর ধরে গণতান্ত্রিক উপায়ে তফশিলি জনজাতির মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় এই জনগোষ্ঠীগুলিকে এসটি মর্যাদা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়েল ওরাঙের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার পরিবর্তে জাদুঘর স্থাপনের মতো প্রস্তাব এই ছয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রত্যাশার প্রতি অবিচার। তিনি বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা কখনও সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংরক্ষণের সুবিধা বা সামাজিক ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।
তিনি সরকারকে প্রশ্ন করেন, ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান কী, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা করেছে, বিপ্লব শর্মা কমিটির প্রতিবেদন কবে কার্যকর করা হবে এবং জনগোষ্ঠীগুলিকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি কবে পূরণ করা হবে?
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি অসমের লক্ষ লক্ষ খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্ৰ) মানুষের আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শুধু ঘোষণা বা আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে ছয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের জনজাতিকরণের দাবি পূরণ করতে হবে।
বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য সরকার দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করে জনজাতিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং ছয় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ কংগ্রেসের বিধায়করা আজ বিধানসভা সদন ত্যাগ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস