
গুয়াহাটি, ১৪ জুলাই (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আধুনিকীকরণের দিকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। রঙিয়া ডিভিশনের মাজবাট, আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের জলপাইগুড়ি রোড এবং কাটিহার ডিভিশনের হলদিবাড় স্টেশনের ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অধীনে পুনর্বিকাশ করা হয়েছে। এটি প্রতিটি অঞ্চলের স্থানীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি অক্ষুণ্ণ রেখে রেলওয়ে স্টেশনগুলোকে আধুনিক, সহজ প্রবেশযোগ্য এবং যাত্রী-বান্ধব পরিবহণ কেন্দ্রে রূপান্তরের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। সমগ্র রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে বিশ্বমানের রেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে ভারত সরকারের যে লক্ষ্য, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এই তিনটি স্টেশনকে যাত্রীদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও ভ্রমণের ভালো অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বার্তায় এ খবর দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, 'অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম'-এর অধীনে অসমের মাজবাট রেলওয়ে স্টেশন ১০.১৯ কোটি টাকা, জলপাইগুড়ি রোড রেলওয়ে স্টেশন ৩৪.৮০ কোটি টাকা এবং হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্বিকশিত হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনকে তার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও পরিচালনগত প্রয়োজন অনুসারে ডিজাইন করা হয়েছে, পাশাপাশি তিনটি স্টেশনই আধুনিক ও যাত্রী-বান্ধব পরিকাঠামোয় সজ্জিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নান্দনিকভাবে উন্নত স্টেশন ভবন, চলাচলের জন্য উন্নত পরিসর, প্রশস্ত অপেক্ষাগার, উন্নত প্ল্যাটফর্ম পরিকাঠামো, প্রয়োজন অনুসারে লিফট সহ ফুট ওভারব্রিজ, দিব্যাঙ্গজনদের জন্য সুবিধাজনক ব্যবস্থা, আধুনিক শৌচাগার, উন্নত যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা, উন্নত আলোকসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপিং এবং অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই সামগ্রিক পুনর্বিকাশের ফলে যাত্রীদের সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি হবে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, পর্যটনের প্রসার ঘটাবে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করছেন এনএফ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
প্ৰেস বাৰ্তায় বলা হয়েছে, 'অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম'-এর অধীনে এই স্টেশনগুলির পুনর্বিকাশ সমগ্র উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যবস্থাকে উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উন্নত যাত্রী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি আধুনিকীকৃত স্টেশনগুলি পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অনন্য সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্যশৈলীকে তুলে ধরার মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’-এর মতো পদক্ষেপগুলি দেশীয় পণ্য ও স্থানীয় কারিগরদের আরও উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি, আধুনিকীকৃত স্টেশনগুলি প্রাণবন্ত জনপরিসর হিসেবে কাজ করবে, যা স্থিতিশীল উন্নয়ন ও উন্নত মাল্টি-মোডাল সংযোগ ব্যবস্থাকে সহায়তা করবে। এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পগুলির মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে একটি আধুনিক, সর্বজনীন ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী ভারতীয় রেলওয়ে ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবদান রেখে চলেছে এবং এর ফলে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী দীর্ঘস্থায়ী সুফল লাভ করছে, দাবি করা হয়েছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মার প্রেস বার্তায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস