
হুগলি, ১৪ জুলাই (হি. স.): হুগলির ঐতিহাসিক মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে মঙ্গলবার গভীর শ্রদ্ধা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভগবান জগন্নাথের নবযৌবন উৎসব পালিত হলো।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৫ দিন ‘অনবসর’ (বিশ্রাম)-এ থাকেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি যেদিন পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন, সেই দিনটিকেই নবযৌবন উৎসব হিসেবে পালন করা হয়।
এই বিশেষ উপলক্ষে ভগবান জগন্নাথকে ৫৬ প্রকারের ভোগ উৎসর্গ করা হয়। সেই সঙ্গে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রাকে রুপোর হাত, সোনার মুকুট, হার ও অন্যান্য অলঙ্কারে সজ্জিত করে রাজবেশ ধারণ করানো হয়।
সকাল সাতটায় ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার ও গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নবযৌবন উৎসবের পরের দিনই ভগবান জগন্নাথ রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এই কারণেই রথযাত্রার ঠিক আগে এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
এই উৎসব উপলক্ষে মন্দির চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ভিড় উপচে পড়ে। এই বিশেষ দিনে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী, চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ভগবানের দর্শন ও পুজো দিতে আসেন।
মন্দিরের প্রধান সেবাইত পিয়াল অধিকারী জানান, নবযৌবন উৎসব মাহেশের অন্যতম বিখ্যাত ও প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য। তিনি বলেন, অনবসর সেবা সম্পন্ন হওয়ার পর ভগবানকে পুষ্পমাল্য, সোনার মুকুট, হার ও রত্নালঙ্কারে সাজিয়ে রাজকীয় রূপ দেওয়া হয়েছে।
এই উপলক্ষে যজ্ঞের মাধ্যমে বিশেষ অভিষেক ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার আচারও সম্পন্ন হয়। ভক্তরা ভগবানকে গুটকা সন্দেশ ও বালা সন্দেশ সহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ভোগ হিসেবে নিবেদন করেন।
বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী বলেন, মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজ্যে এখন সনাতন ঐতিহ্য ও হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এই ধরণের আয়োজন ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি