নেপালে বন্যায় জলের তলায় বিশ্বের বৃহত্তম শালগ্রাম শিলা
কাঠমান্ডু, ১৪ জুলাই (হি.স.) : টানা দু''দিনের প্রবল বৃষ্টিতে নেপালের পার্বত, স্যাংজা ও গুলমি জেলার সঙ্গমস্থল সেতিবেনিতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম শালগ্রাম শিলা বন্যার জলে সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে। কালী গণ্ডকী ও সেতি নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায
নেপালে বন্যায় জলের তলায় বিশ্বের বৃহত্তম শালগ্রাম শিলা


কাঠমান্ডু, ১৪ জুলাই (হি.স.) : টানা দু'দিনের প্রবল বৃষ্টিতে নেপালের পার্বত, স্যাংজা ও গুলমি জেলার সঙ্গমস্থল সেতিবেনিতে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম শালগ্রাম শিলা বন্যার জলে সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে। কালী গণ্ডকী ও সেতি নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শালগ্রাম শিলায় যাওয়ার রাস্তা, তীর্থযাত্রীদের বিশ্রামাগার এবং পরিক্রমা পথও জলের তলায় চলে গিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আপাতত ভক্তদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

শালগ্রাম বিদ্যাশ্রমের পৃষ্ঠপোষক কুলরাজ তিওয়ারি জানান, কালী গণ্ডকী নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শালগ্রাম শিলাটি সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। পুরোহিত ও মন্দিরকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ভক্তরা এখন আর পুজো বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কালী গণ্ডকী ও সেতি নদীর প্রবল স্রোতে শালগ্রাম শিলার চারপাশের পরিক্রমা পথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাকে ঘিরে নির্মিত সুরক্ষাবাঁধ ও গ্যাবিয়ন কাঠামোও জলের তলায় চলে গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত আশপাশের জনবসতিতে সরাসরি কোনও বিপদের খবর নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালী গণ্ডকী ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের কারণে সেতিবেনি বাজার এলাকায় বারবার বন্যার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জলস্তর আরও বাড়তে থাকায় প্রায় ২০০ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সেতিবেনি এলাকা এবং ঐতিহাসিক শালগ্রাম শিলাকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, পার্বত জেলা পুলিশ টানা বৃষ্টির জেরে জেলাজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকার সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়া এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande