
মেদিনীপুর, ১৫ জুলাই (হি.স.): মেদিনীপুর শহরে ফের একবার উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবার পাঞ্চুরচক থেকে গোলকুয়া চক পর্যন্ত রাস্তার ধারে থাকা ৪১ জন ব্যবসায়ীকে ১০ দিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর (পিডব্লিউডি)। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দোকান ও কাঠামো ভেঙে ফেলা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে দফতরের কর্মীরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে ব্যবসায়ীদের হাতে নোটিশ তুলে দেন। যে সমস্ত দোকান বন্ধ ছিল, সেগুলির সাটারে নোটিশ সেঁটে দেওয়া হয়। এই নোটিশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় গভীর উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, তাঁরা গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে ব্যবসা করে নিজেদের পরিবার প্রতিপালন করছেন। দফতরের জমি যে একদিন খালি করতে হতে পারে, সে কথা তাঁদের জানা ছিল। তবে সম্প্রতি তাঁরা খবর পেয়েছিলেন যে দুর্গাপুজো পর্যন্ত হয়তো সময় পাওয়া যেতে পারে। সেই অনুযায়ী তাঁরা বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন, কিন্তু পুজোর আগেই আকস্মিক এই উচ্ছেদের নোটিশ মেলায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও মেদিনীপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারের বেশ কিছু দোকান সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার তারই ধারাবাহিকতায় পাঞ্চুরচক থেকে গোলকুয়া পর্যন্ত এই অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, শহরের রাস্তা চওড়া করা, বেআইনি জবরদখল উচ্ছেদ এবং যানজটের সমস্যা কমানোর লক্ষ্যেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে। নির্বাচনের আগে শহরের নাগরিকদের একাংশও রাস্তার ধারের জবরদখল হটানোর দাবি তুলেছিলেন।
এদিকে মঙ্গলবার গভীর সন্ধ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে দোকানগুলি সরিয়ে দিলে বহু পরিবারের রুজি-রুজি সংকটে পড়বে এবং দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই তাঁদের চরম আর্থিক অনটনের মুখোমুখি হতে হবে। এই বিষয়ে তাঁরা স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি