

নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (হি.স.): সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) কৌশলগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের সাংসদরা। অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কোন কোন ইস্যুতে সরব হওয়া হবে এবং বিভিন্ন বিলের মোকাবিলায় কী কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর এক্স-এ করা পোস্টে মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, মন্দিরের দান চুরির অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার অবক্ষয়, সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক দল ভাঙানোর অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতির অভিযোগ, বিদেশনীতি, ই-২০ (এথানল মিশ্রণ) নীতি, নির্বিচারে বন উজাড় এবং তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, ওবিসি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি অধিবেশনে জোরালোভাবে উত্থাপন করবে কংগ্রেস।
পরে দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ও রাজ্যসভার সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে সরকারের আনা একাধিক প্রস্তাবিত বিল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পরিসীমা নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল, বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল এবং এফসিআরএ সংশোধনী বিল। কংগ্রেস এই বিলগুলির বিরোধিতা করবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
জয়রাম রমেশ বলেন, সরকার ১৯ জুলাই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। সেখানে অধিবেশনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের সঙ্গে পরিসীমা নির্ধারণ বিলকে যুক্ত করে সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। দল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে এবং সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
তিনি আরও জানান, ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশন মোট ১৯ দিনের হলেও কার্যত ১৬ দিন সংসদের কাজ চলবে। এই সময়ে মূল্যবৃদ্ধি, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিট বিতর্ক, শিক্ষা ব্যবস্থা, বিদেশনীতি এবং অন্যান্য জনস্বার্থের বিষয়গুলিতে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য