
নাগেরকয়েল, ১৬ জুলাই (হি.স.): তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকয়েল উপ-কারাগারে বিচারাধীন বন্দি সবরিবর্মনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর শরীরে ১৯টি গুরুতর আঘাতের চিহ্নের প্রমাণ মিলেছে। এরপরই এক প্রধান ওয়ার্ডেন-সহ তিন কারারক্ষী এবং আট বন্দিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রতিবাদে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন মৃতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের অভিযোগ, জেলের ভিতরে সবরিবর্মনের প্রতিবন্ধী হাত ভেঙে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাঁরা মৃতদেহ গ্রহণ বা শেষকৃত্য করবেন না বলেও জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তিন কারারক্ষীর পাশাপাশি জেলের ভিতরে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আট বন্দির বিরুদ্ধেও খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সি সবরিবর্মন কন্যাকুমারী জেলার উত্তর থামারাইকুলম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাড়ির কাছে একটি ছোট মুদি দোকান চালাতেন। গত ৯ জুলাই তাঁর দোকানে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ গুটখা ও তামাকজাত পণ্য উদ্ধারের পর দক্ষিণ থামারাইকুলম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। একই ধরনের অভিযোগে এটি ছিল তাঁর বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলা। এরপর তাঁকে নাগেরকোইল উপ-কারাগারে পাঠানো হয়।
১৩ জুলাই সকালে জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায়। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আসারিপল্লম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রকাশিত রিপোর্টে শরীরের বিভিন্ন অংশে ১৯টি গুরুতর আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের আইনজীবীদের দাবি, সবরিবর্মনের ডান হাত আগে থেকেই প্রতিবন্ধী ছিল। সেই হাতের কনুই ও কব্জির হাড় একাধিক জায়গায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণও মিলেছে। দুই হাঁটুতেও গুরুতর আঘাতের উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভরত পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি, পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা, স্থায়ী জীবিকার ব্যবস্থা এবং মৃতের স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তদন্তে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার আট বন্দির বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কোনও জেলকর্মী বা ব্যক্তির ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য