শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে, পরীক্ষা বেসরকারি সংস্থার হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে: রাহুল গান্ধী
দেহরাদূন, ১৭ জুলাই (হি.স.): দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার পরিবর্তে সরকারের হাতে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্ন
শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে, পরীক্ষা বেসরকারি সংস্থার হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে: রাহুল গান্ধী


দেহরাদূন, ১৭ জুলাই (হি.স.): দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার পরিবর্তে সরকারের হাতে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রুখতে এবং পরীক্ষার উপর জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত করা জরুরি।

শুক্রবার দেহরাদূনের বান্নু স্কুল ময়দানে আয়োজিত ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ শীর্ষক কর্মসূচিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাহুল। সেখানে তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, বেসরকারি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাড়তি ব্যবহার এবং সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কাছে সরকারি চাকরিই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা তাঁদের বহু বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

রাহুলের দাবি, বহু পরীক্ষার্থী প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা পড়াশোনা করে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। কোচিং-সহ প্রস্তুতির পেছনে গড়ে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অথচ প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হলে সেই পরিশ্রম এক মুহূর্তে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে মেধাবী ও সৎ পরীক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা দরকার।

অনুষ্ঠানে উত্তরাখণ্ড ও বিহারের একাধিক পরীক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়তে হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দেহরাদূনের ছাত্রী রিয়া কুমারীর বাবা রাজেশ সিংও। নিট পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর মানসিক অবসাদে তাঁর মেয়ের আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

রাহুল গান্ধী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে শুধু সরকার বা বিরোধী দল নয়, সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রয়োজন। তাঁর কথায়, প্রশ্নফাঁস কেবল পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি নয়, এটি দেশের কোটি কোটি তরুণের ভবিষ্যতের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সর্বদলীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande