
ফরিদাবাদ, ১৭ জুলাই (হি.স.): একবার ব্যর্থ হয়েও হার মানেননি। বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই শক্তিতে পরিণত করে নিট ইউজি-২০২৬ পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ফরিদাবাদের ছাত্র পাংশুল বনসল। তাঁর কথায়, আগের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
দিল্লির কৈলাশ কলোনির সামার ফিল্ড স্কুলের ছাত্র পাংশুল জানান, ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। ভবিষ্যতে এইমস, নয়াদিল্লিতে এমবিবিএস পড়ে নিউরোসার্জারি অথবা কার্ডিওলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পাংশুল বলেন, আলাদা কোনও কৌশল নয়, নিয়মিত পড়াশোনার উপরই ভরসা রেখেছিলেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। তাঁর মতে, ধারাবাহিকতা এবং আত্মবিশ্বাসই বড় সাফল্যের ভিত্তি।
আগের নিট পরীক্ষার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। সেই পরীক্ষায় ৬৯৬ নম্বর পেয়েছিলেন। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়া এবং পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে হতাশার কারণ না ভেবে নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। আগের ভুলগুলি শুধরে নিয়ে ফের পরীক্ষায় বসেন। এবার কোনও চাপ বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা ছাড়াই পরীক্ষা দেন এবং ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক-২ অর্জন করেন।
সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষকদের দিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন পাংশুল। তিনি জানান, তিন মাস অন্তর মক টেস্টের পর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যেতেন, গান শুনতেন, অ্যানিমেশন দেখতেন এবং মাঝেমধ্যে আড্ডাও দিতেন। কঠিন বিষয় বুঝতে কখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নেননি; বরং শিক্ষকদের কাছ থেকে এবং বই পড়েই বিষয়গুলি আয়ত্ত করেছেন।
দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ৯৪ শতাংশ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি তিনি জেইই মেইন-২০২৬ পরীক্ষায়ও ৯৯.৫ পার্সেন্টাইল অর্জন করেন। তবে শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল চিকিৎসাবিদ্যা, তাই নিটের প্রস্তুতিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। পড়াশোনার বাইরে সংগীতও তাঁর নেশা। পিয়ানো বাজাতে ভালোবাসেন পাংশুল। আন্তর্জাতিক স্তরের সংগীত পরীক্ষায়ও তিনি সাফল্য পেয়েছেন। রক স্কুল থেকে গ্রেড-৪ এবং ট্রিনিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে গ্রেড-২ শংসাপত্র অর্জন করেছেন তিনি।
ফরিদাবাদের সেক্টর-২১সি-র বাসিন্দা পাংশুল বনসলের মা একটি সংবাদ সংস্থায় কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত এবং বাবা সঞ্জীব কুমার বনসল একজন শিল্পোদ্যোগী। তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিবার, শিক্ষক এবং গোটা দিল্লি-এনসিআর।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য