ঝাড়গ্রাম পুরবোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, তিন দিনের মধ্যে জবাব চাইল রাজ্য সরকার
ঝাড়গ্রাম, ২ জুলাই (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম পুরসভার বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভ
ঝাড়গ্রাম পুরবোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু, তিন দিনের মধ্যে জবাব চাইল রাজ্য সরকার


ঝাড়গ্রাম, ২ জুলাই (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম পুরসভার বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর পুরসভাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে।

৩০ জুন জারি হওয়া নোটিসে পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন, ১৯৯৩-এর ৪৩১(১) ধারার উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না। সন্তোষজনক জবাব না মিললে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের রিপোর্ট অনুযায়ী ৬, ৭, ৮, ১১, ১৩ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ছয়জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এর পাশাপাশি পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধান নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ১, ৫, ১০, ১১, ১৪, ১৫ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর-সহ একাধিক অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। অভিযোগ, কাউন্সিলরদের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে জন্ম শংসাপত্র-সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার গৌরাঙ্গ প্রধান, লক্ষ্মী সরেন, সুকুমার শীট ও সুখী সরেনও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউয়ের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় সাধারণ মানুষ কাউন্সিলরদের খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, নাগরিকদের পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হলে কাউন্সিলর পদে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না। প্রয়োজনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবি, গত ৪ জুন পুরবোর্ডের বৈঠকের দিন বিজেপি-সমর্থিত বিক্ষোভকারীরা পুরভবনে ঢুকে ডিম ছোড়া, ভাঙচুর এবং কাউন্সিলরদের মারধর করে। সেই ঘটনার পর থেকেই পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

যদিও বিজেপির জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নাগরিক পরিষেবা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই সাধারণ মানুষ ওইদিন পুরভবনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১৮ সদস্যের বোর্ডে ১৭ জন তৃণমূল এবং একজন সিপিআই কাউন্সিলর রয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূলের ছয়জন ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া তৃণমূলের এক কাউন্সিলর তোলাবাজি ও জমি জালিয়াতির মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় জেলবন্দি রয়েছেন। ফলে পুরবোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে রাজ্য সরকারের পাঠানো এই কারণ দর্শানোর নোটিসই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। পুরসভার জবাব খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুরপ্রধানের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande