
বাঁকুড়া, ২০ জুলাই (হি.স.) : অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভাতা থেকে বঞ্চিতদের ক্ষোভ প্রায় সর্বত্র। সেই বঞ্চিতদের ক্ষোভ মেটাতে গঙ্গাজলঘাঁটির বিজেপি কর্মীরা শিবিরের আয়োজন করে জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে প্রতিশ্রুতি ছিল, উপযুক্ত মহিলারা ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সুবিধা নিতে মহিলারা কেউ অনলাইনে, কেউ অফলাইনে আবেদন করেছেন। দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা ঢুকছে না, অথচ তাঁরা আগের সরকারের ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’-এর টাকা পেতেন। এ নিয়ে এলাকায় এলাকায় বিজেপি কর্মীদের জবাবদিহি করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের বেশিরভাগ উপভোক্তা এই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, তা নিয়ে রীতিমতো শিবির বসিয়ে জানতে চেষ্টা করলেন গঙ্গাজলঘাঁটির কয়েকজন বিজেপি স্বেচ্ছাসেবক। শিবিরে উঠে আসা প্রমাণপত্র নিয়ে সোমবার তাঁরা বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাসগুপ্তের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানান, যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা তাড়াতাড়ি এই প্রকল্পের সুবিধা পান।
শিবির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি স্বেচ্ছাসেবক দলের বিমান সিংহ, পৃথ্বীশ কুমার সিংহসহ একাধিক ব্যক্তি। বিমান সিংহ বলেন, গরিব অসহায় পরিবারে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকছে না। তাঁদের কাছে অনেকেই জানতে চাইছেন, কিন্তু তাঁরা ন্যায্য কথার কোনো জবাবদিহি করতে পারছেন না। খোঁজ নিয়ে দেখলাম পার্শ্ববর্তী শালতোড়া ব্লকে আবেদনকারী উপযুক্ত মহিলারা অন্নপূর্ণা প্রকল্পে টাকা পাচ্ছেন, অথচ গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের মহিলারা পাচ্ছেন না। কোথায় আটকে আছে বা কোথায় সমস্যা, তা জানার জন্য রবিবার তাঁরা একটি শিবির করেছিলেন। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে কয়েকশো মহিলা তাঁদের শিবিরে এসেছিলেন। অনলাইন চেক করে দেখা গেল, সকলের আবেদনে 'অন প্রসেসিং' বলে উল্লেখ রয়েছে। বিমান সিংহ আরও বলেন, মে মাসে নতুন সরকার হয়েছে, দু'মাসের টাকা পাননি মহিলারা। এই জুলাই মাসেও তা পাবেন না। তাই এই সামান্য কয়েকটি প্রমাণপত্র নিয়ে জেলাশাসকের কাছে অনুরোধ করলেন তাঁরা, যাতে প্রত্যেক উপযুক্ত মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পান তার ব্যবস্থা করতে।
পৃথ্বীশ কুমার সিংহ বলেন, আমরা কোনো রং না দেখে শিবিরে আসা সকলের নথি যাচাই করে দেখেছি এবং জেলাশাসকের কাছে আবেদন রেখেছি।
জেলাশাসক এই স্বেচ্ছাসেবী সমাজকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, এটাও সুনাগরিকদের কাজ। তিনি আশ্বাস দেন, যাতে দ্রুত কাজ শেষ করা যায় তা তিনি দেখবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট