ভারী বৃষ্টিতে দুলুং নদীর কজওয়ে জলের তলায়, ঝাড়গ্রাম-জামবনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝাড়গ্রাম, ২১ জুলাই (হি.স.): টানা এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টির জেরে চিল্কিগড়ে দুলুং নদীর উপর থাকা কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ায় ঝাড়গ্রাম শহরের সঙ্
টানা এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়েছে


ঝাড়গ্রাম, ২১ জুলাই (হি.স.): টানা এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টির জেরে চিল্কিগড়ে দুলুং নদীর উপর থাকা কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ায় ঝাড়গ্রাম শহরের সঙ্গে জামবনি ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, নিত্যযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং মুমূর্ষু রোগীরা।

কজওয়ে ডুবে যাওয়ার পর থেকেই রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে পণ্যবাহী লরি, ছোট গাড়ি-সহ অন্যান্য যানবাহন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও নদী পার হওয়ার সুযোগ না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘুরপথে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। এদিকে, জামবনি থানার পুলিশ কজওয়ের দুই প্রান্তে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ যাতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কজওয়ে পারাপারের চেষ্টা না করেন, সে বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর প্রবল স্রোতে একটি গবাদি পশু ভেসে গিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর জল ও স্রোত এতটাই তীব্র যে এই অবস্থায় কজওয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঝাড়গ্রাম ও জামবনি ব্লকের মধ্যে এই রাস্তা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ঝাড়গ্রাম শহরে যাতায়াত করেন। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা এলেই প্রায় একই সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। সামান্য বৃষ্টিতেই দুলুং নদীর জলস্তর বেড়ে কজওয়ে ডুবে যায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন রোগী, পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশা তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। তাই দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দুলুং নদীর উপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande