
ঝাড়গ্রাম, ২১ জুলাই (হি.স.): প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন ঝাড়গ্রাম শহরের চাঁদাবিলা এলাকার বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি বিনয়কৃষ্ণ মুদি। কর্নাটকের উদুপি জেলার কার্কাল এলাকার একটি আশ্রম থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে ঝাড়গ্রামের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের আদালতে পেশ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বিনয়কৃষ্ণ। কিছুদিন পর একটি অচেনা নম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি কেরলমের তিরুবনন্তপুরমে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবা প্রাণকৃষ্ণ মুদি ঝাড়গ্রাম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
দীর্ঘদিন কোনও খোঁজ না মিললেও সম্প্রতি একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, বিনয়কৃষ্ণ কর্নাটকের উদুপি জেলার কার্কাল এলাকার ‘সুরক্ষা আশ্রমে’ রয়েছেন। এরপর ঝাড়গ্রাম থানার এএসআই বিমলকুমার মাঝি এবং কনস্টেবল লালচাঁদ বেহেরা কর্নাটকে যান। কার্কাল টাউন থানার সহযোগিতায় গত ১৮ জুলাই তাঁরা আশ্রমে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিনয়কৃষ্ণকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে ঝাড়গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিনয়কৃষ্ণকে ফিরিয়ে আনতে প্রথমে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাত পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। এরপরই ঝাড়গ্রাম থানার উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বিনয়কৃষ্ণকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো