
শিলচর (অসম), ২১ জুলাই (হি.স.) : দ্বিতীয় বরাকের ভাষা শহিদ দিবসের সন্ধ্যায় শিলচর শহরে অভিজাত এক হোটেলে প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও বরাকের বিশিষ্ট সমাজকর্মী প্রদীপ দত্তরায়ের তৃতীয় প্রবন্ধগ্রন্থ 'তিন ভুবনের বাঙালি' আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। রূপম সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের পরিবেশিত উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মনোজ দেব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট ও কবি অতীন দাশ, বরাক উপত্যকা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হারাণ দে, শিক্ষাবিদ হিলাল উদ্দিন লস্কর, সাংবাদিক বিকাশ চক্রবর্তী, সমাজকর্মী শান্তনু দাস, সাংস্কৃতিক সংগঠক নিখিল পাল, শিল্পপতি মহাবীর প্রসাদ জৈন এবং গ্রন্থের লেখক প্রদীপ দত্তরায়। উপস্থিত অতিথিরা গ্রন্থটির তাৎপর্য ও বাঙালি সমাজের ইতিহাস, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য পেশ করেছেন।
অতীন দাশ বলেন, ২১ জুলাই বাঙালি সমাজের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ এদিন দ্বিতীয় বরাক ভাষা শহিদ দিবস পালন করা হয়। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণে আমরা কতটা কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছি, সে প্রশ্ন তিনি উত্থাপন করেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষার ব্যবহার ক্রমেই কমে চলছে। এছাড়া ১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেলস্টেশনে গুলিচালনার ঘটনাটি তদন্তে গঠিত কমিশন এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেনি বলে খেদ ব্যক্ত করেন অতীন দাশ।
সাহিত্য ও বইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে অতীন দাশ বলেন, আকারে ছোট বা বড় যা-ই হোক প্রতিটি গ্রন্থ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 'তিন ভুবনের বাঙালি' গ্রন্থে বাঙালিদের নানা সমস্যা ও সংকটের দিকগুলো উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, বাঙালি সমাজে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব বর্তমান সমস্যার বড় কারণ।
বিকাশ চক্রবর্তী বইটিকে বাঙালি সমাজ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আখ্যা দেন। নিখিল পাল লেখক প্রদীপ দত্তরায়কে অভিনন্দন জানিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ধারাবাহিক সোচ্চার ভূমিকার প্রশংসা করেন। সমাজকর্মী শান্তনু দাসও লেখকের সমাজসেবামূলক অবদানের প্রশংসা করেন।
স্বাগত ভাষণে প্রদীপ দত্তরায় জানান, বাঙালি সমাজের ইতিহাস, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই এই বই লিখেছেন তিনি। আশা প্রকাশ করে প্রদীপ বলেন, ‘বইটি পাঠকদের নিজেদের ঐতিহ্য ও শিকড় সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে। এই বই যদি মানুষের হৃদয়ে সামান্য হলেও একটি স্ফুলিঙ্গ জ্বালাতে পারে, তা-হলেই আমার প্রচেষ্টা সার্থক মনে করব।’
হিলাল উদ্দিন লস্কর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইতিহাসের নানা ভুলের কারণে বাঙালিরা এখনও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ও বহু কৃতী বাঙালির অবদান ধীরে ধীরে বিস্মৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লেখালেখির মাধ্যমে এ সব বিষয় সামনে আনায় প্রদীপ দত্তরায়কে সাধুবাদ জানান।
হারাণ দে বলেন, এই অঞ্চলে বাংলা ভাষা এখনও তার প্রাপ্য মর্যাদা অর্জন করতে পারেনি। তিনি বাঙালি সমাজে ঐক্যের অভাব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নীরবতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং লেখকের ধারাবাহিক সমস্যার উত্থানের জন্য সাধুবাদ জানান। উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস