অসমে বন্যা কবলিত অঞ্চলে অব্যাহত সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য : প্রদেশ বিজেপি
গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম সরকার যোরহাট, শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে। অসম প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া প্যা
বন্যাকবলিত এলাকায় মন্ত্ৰী বিমল বরা, বিধায়ক মৃণাল শইকিয়া সহ অন্যরা


শিবসাগর জেলাশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে ত্রাণশিবিরের উদ্দেশে যাচ্ছে পানীয় জলের বোতলবাহী গাড়ি


গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম সরকার যোরহাট, শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করেছে। অসম প্রদেশ বিজেপির মিডিয়া প্যানেলিস্ট ধর্মকান্ত গগৈ এক বিবৃতিতে জানান, অসম এবং পার্শ্ববর্তী পার্বত্য রাজ্যগুলিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রাজ্যের একাধিক জেলায় মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অসমের বিভিন্ন এলাকায় ১১৫.৬ মিলিমিটার থেকে ২০৪.৪ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর জেরে, বিশেষ করে শিবসাগর ও চড়াইদেও জেলায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসম সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে অবিলম্বে সক্রিয় করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ ও সংস্থাকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করেছে। চার মন্ত্রী ও বিধায়কদের বন্যাকবলিত এলাকায় উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন, এনডিআরএফ, আসাম পুলিশ, অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা এবং স্বাস্থ্য দফতর দিনরাত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে বিজেপির অসম প্রদেশের সভাপতি দিলীপ শইকিয়া দলীয় কার্যকর্তাদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ধর্মকান্ত গগৈ জানান, এমতাবস্থায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে মোট ১০১টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয়, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে শিবসাগরে ১৯টি, যোরহাটে ৩৩টি, চড়াইদেওয়ে চারটি, তিনিচুকিয়ায় ২০টি, ডিব্রুগড়ে আটটি এবং গোলাঘাটে সাতটি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বন্যাকবলিত জেলায়ও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি ত্রাণ শিবিরগুলিতে ৯,৬০৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ৩৪,৯০৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র এবং সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসক দল বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করছে। বিশেষভাবে মহিলা, শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকার জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলি নতুন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, কৃষিজমি, রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অসম প্রদেশ বিজেপি গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অসম সরকার পুনরায় আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণরূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে অব্যাহত থাকবে, বলা হয়েছে প্রদেশ বিজেপির বিবৃতিতে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande