
হাফলং (অসম), ২১ জুলাই (হি.স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথের দামছড়া ও চন্দ্রনাথপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় আজ মঙ্গলবার ভোরে চালবোঝাই একটি মালগাড়ি লাইনচ্যুত হওয়ায় প্রায় নয় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় রেললাইন ও একাধিক কংক্রিট স্লিপারের ক্ষতি হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ওই রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, মঙ্গলবার ভোর প্রায় পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে পাহাড়ে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে তাঁরা কয়েকশো মিটার দূরে একটি মালগাড়িকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এদিকে রেল সূত্রে জানা গেছে, ১৪২/১২ কিলোমিটার পয়েন্টে মালগাড়িটির একটি চালবোঝাই ওয়াগনের পেছনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়েছে। সে সময় ট্রেনটি তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলছিল বলে জানা গেছে। ফলে লাইনচ্যুত চাকা কিছু দূর পর্যন্ত রেললাইনের ওপর ঘষে যাওয়ায় রেললাইন ও স্লিপারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দুর্ঘটনার জেরে শিলচর-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস, রঙ্গিয়া-শিলচর এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস সহ একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে। খবর পেয়ে এনএফ রেলের উদ্ধারকারী ও ইঞ্জিনিয়ারের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা প্রায় ২.০০টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত করে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়। এর পর পর্যায়ক্রমে আটকে থাকা ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে ট্রেনগুলোকে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিসীমা মেনে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, চালবোঝাই মালগাড়িটি মণিপুরের খোংসাঙের উদ্দেশে যাচ্ছিল। কী কারণে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব