
বাঁকুড়া, ২১ জুলাই (হি.স.): বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানার মুক্তাপুর গ্রামে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জমি বিবাদের জেরেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হলেও, পরিবারের তরফে রাজনৈতিক যোগের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক কারণ নাও থাকতে পারে।
মঙ্গলবার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কার্তিক ঘোষ নামে ওই তৃণমূল কর্মীকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাতেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির কাছে একটি খামারে স্থানীয় কয়েকজন শাবল ও লোহার রড নিয়ে কার্তিক ঘোষের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি সেখানে পৌঁছতেই তাঁর উপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর হাত-পা ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় বিজেপি সমর্থক। খুনিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। বিজেপির বক্তব্য, প্রায় এক বছর আগে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কার্তিক ঘোষের জমি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়েছিল। ওই বিবাদ নিয়ে একাধিকবার পাত্রসায়ের থানায় মীমাংসাও হয়। কিন্তু তারপরেও সমস্যা মেটেনি। জমি সংক্রান্ত সেই বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, মুক্তাপুর গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক ঘোষ একসময় এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তবে বয়সজনিত কারণে গত দু’বছর ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না।
বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তি হবে। পুলিশ তদন্ত করছে। আইন আইনের পথে চলবে।”
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জমি বিবাদ নাকি রাজনৈতিক শত্রুতা—খুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট