
শ্রীভূমি (অসম) ২২ জুলাই (হি.স.) : রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং শ্রীভূমি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বুধবার শ্রীভূমিতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ক একদিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সরকারি বিভাগের নোডাল অফিসারদের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর জনসচেতনতা, সমন্বিত পদক্ষেপ এবং আচরণগত পরিবর্তনের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান।
শ্রীভূমির অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত তথা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নিলোৎপল পাঠকের উপস্থিতিতে এবং জেলা প্রকল্প আধিকারিক সিজু দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রাজীব গুপ্তা, ড. অনন্যা গুপ্তা, ডা. জামাল আহমেদ, ডা. সুজয় চক্রবর্তী, মুস্তফা আহমেদ ও আরিফুল হক। স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, জলসম্পদ, সেচ, শিক্ষা, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, কৃষি, পূর্ত, এপিডিসিএল, জেলা পরিবহন, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের নোডাল অফিসার এবং প্রতিটি সার্কেলের প্রতিনিধিরা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে বন্যা, ভূমিধস, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে কীভাবে দ্রুত ও সঠিক সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়, কীভাবে আতঙ্ক না ছড়িয়ে জনগণকে শান্ত ও আশ্বস্ত রাখা যায় এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রিসোর্স পার্সন ড. রাজীব গুপ্তা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে উঠলে দুর্যোগের সময় মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ, বিশেষ করে নালা-নর্দমায় আবর্জনা না ফেলা এবং জলনিকাশ ব্যবস্থা সচল রাখা কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও জানান, আচরণগত পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।
কর্মসূচিতে দুর্যোগের পূর্বাভাস দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধারকাজ চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা, ত্রাণ শিবিরে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সমন্বয় এবং গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এদিন বিভিন্ন বিভাগের নোডাল অফিসারদের অংশগ্রহণে একটি গ্রুপ অ্যাক্টিভিটিও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত নিলোৎপল পাঠক সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনের গুরুত্ব, দুর্যোগ-পূর্ব সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিভাগের কার্যকর সমন্বয় এবং ভবন নির্মাণে বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রতিটি স্তরে এই সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সকল নোডাল অফিসারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস