বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রুটে আরও ট্রেন চালানোর দাবি যাত্রীদের
বাঁকুড়া, ২২ জুলাই (হি.স.): বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রেলপথে আরও বেশি ট্রেন চালানোর দাবি উঠল যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, এই রেলপথে বর্তমানে দিনে মাত্র একটি ট্রেন যাতায়াত করায় সাধারণ যাত্রী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এব
বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রুটে আরও ট্রেন চালানোর দাবি যাত্রীদের


বাঁকুড়া, ২২ জুলাই (হি.স.): বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রেলপথে আরও বেশি ট্রেন চালানোর দাবি উঠল যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, এই রেলপথে বর্তমানে দিনে মাত্র একটি ট্রেন যাতায়াত করায় সাধারণ যাত্রী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং পর্যটকদের তেমন সুবিধা হচ্ছে না। তাই ভোর থেকে একাধিক ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রেল পরিষেবা চালু হলেও বর্তমানে পরিষেবা যথেষ্ট সীমিত। এই রেলপথে জয়রামবাটি, গোকুলনগর ও বিষ্ণুপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। অথচ বর্তমানে দিনে মাত্র একটি ট্রেন একবার যাতায়াত করে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনটি বাঁকুড়া থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টায় জয়রামবাটি পৌঁছয়। এরপর রাত ৯টা ১০ মিনিটে বিষ্ণুপুর হয়ে রাত ১০টা নাগাদ বাঁকুড়ায় ফিরে আসে। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ে এই রেল পরিষেবা সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কোনও কাজে আসে না।

বাঁকুড়া স্টেশনের যাত্রী মালবিকা মাকুড়, অনন্ত চেল, প্রভাতী চট্টোপাধ্যায় ও গীতা মাহান্তি বলেন, “এই রুটে ভোর থেকে একাধিক ট্রেন চালানো প্রয়োজন। এতে পর্যটনকেন্দ্রগুলির উন্নতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।”

তাঁদের বক্তব্য, প্রতিদিন বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়া শহরে চিকিৎসা, আদালত, সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস এবং বাজারের কাজে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালত ও মহকুমা শাসকের দফতর, বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন, জেলা আদালত, পুলিশ সুপারের দফতর এবং জেলা পরিষদে প্রতিদিন বহু মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময়সূচির কারণে তাঁদের অনেকেই এই রেল পরিষেবা ব্যবহার করতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দে ও মানস মালাকার বলেন, এই এলাকা মূলত কৃষিনির্ভর। ভোর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হলে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল সহজেই বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া বা জয়রামবাটির বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। এতে এলাকার কৃষি অর্থনীতি ও সামগ্রিক আর্থিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান গোকুলনগর। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক গোকুলচাঁদ মন্দির, যা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। মল্লরাজাদের প্রথম দিকের রাজধানী হিসেবে গোকুলনগরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। মল্লরাজ প্রথম রঘুনাথ সিংহের আমলে নির্মিত এই মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে অসংখ্য পৌরাণিক মূর্তির খোদাই। মন্দির চত্বরে রয়েছে বিশাল নাটমণ্ডপ, যা একসময় কীর্তন, ভাগবত পাঠ এবং সাধুদের থাকার কাজে ব্যবহৃত হত।

গোকুলচাঁদ মন্দিরের কাছে রয়েছে গন্ধেশ্বর শিবমন্দির। এখানকার বৃহদাকার শিবলিঙ্গও বিশেষ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে। মন্দিরে থাকা মহিষমর্দিনী মূর্তিটিকে ঐতিহাসিকদের একাংশ পালযুগের নিদর্শন বলে মনে করেন।

স্থানীয়দের দাবি, গোকুলনগর ও সংলগ্ন সলদা এলাকায় প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই অঞ্চলের মাটির নীচে থাকা প্রাচীন ঐতিহ্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এলাকায় বহু জৈন ও হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি, ভাঙা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এবং বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

ফলে গোকুলনগর, বিষ্ণুপুর ও জয়রামবাটি ঘিরে পর্যটন ও গবেষণার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সকালে একাধিক ট্রেন চালু হলে পর্যটক ও গবেষকদের পাশাপাশি কৃষ্ণভক্তদেরও যাতায়াত সহজ হবে। একইভাবে শুশুনিয়া, বিহারীনাথ ও ছাতনার মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে যাতায়াতও আরও সহজ হবে।

যাত্রীদের দাবি, বর্তমান পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা ও যাত্রীদের চাহিদা পর্যালোচনা করে বাঁকুড়া–জয়রামবাটি রুটে ভোর থেকে একাধিক ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হোক।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande