
গুয়াহাটি, ২২ জুলাই (হি.স.) : উজানের অববাহিকা অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে দিখৌ নদীর জল উপচে পড়ায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের তিনসুকিয়া ডিভিশনের অধীন শিবসাগর জেলার সিমালুগুড়ি রেলস্টেশন ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। নদীর জল স্টেশন ইয়ার্ড, রেলওয়ে কলোনির একাংশ এবং রেললাইনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রেল চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল।
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ট্রেন চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তিনসুকিয়া ডিভিশনের বরিষ্ঠ আধিকারিকদের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২৪ ঘণ্টা পুনরুদ্ধার ও নজরদারির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেলেংঘাট–আমগুড়ি রেল সেকশনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলিতে ব্যাপক মেরামতির কাজ চলছে। সেখানে রেলওয়ের প্রকৌশলী, সুপারভাইজার এবং দুই শতাধিক কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে রেললাইন মেরামত, পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির পুনর্গঠনের কাজ করছেন।
বৃহস্পতিবারও শিবসাগর টাউন–সিমালুগুড়ি রেল সেকশনে পুরোদমে পুনরুদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জলাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপদ রেল চলাচল নিশ্চিত করতে রেললাইনের অবস্থা, মাটির স্থিতিশীলতা এবং জলস্তরের উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা গোটা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, অপারেশন, সিগন্যাল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে ট্রেন চলাচলের বিঘ্ন যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে ওঠা যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রেল সূত্রে জানানো হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই কঠিন সময়েও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি এই দুর্যোগের সময় যাত্রীদের ধৈর্য, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস