
সাত জেলায় এখনও ৩ লক্ষাধিক মানুষ জলবন্দি, শিবসাগর ও গোলাঘাটে আরও তিনজনের মৃত্যু
গুয়াহাটি, ২৯ জুলাই (হি.স.) : অসমে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিপর্যয় এখনও কাটেনি। বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। একই সঙ্গে সাতটি জেলায় এখনও ৩ লক্ষের বেশি মানুষ বন্যার জলে প্রভাবিত রয়েছেন। বহু এলাকায় জল নামতে শুরু করলেও ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দরুন স্বাভাবিক জনজীবন এখনও ফিরতে পারেনি।
সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সরকারি বুলেটিনে জানানো হয়েছে, শিবসাগর, চড়াইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ (মেট্রোপলিটন), এই সাতটি জেলায় মোট ৩,০০,০৩১ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২১টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৫৫১টি গ্রাম বন্যার জলে ভাসছে। বন্যার জেরে ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন করে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় দুজন এবং গোলাঘাট জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বন্যায় অসমে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ পৌঁছেছে।
এদিকে, কামরূপ (মেট্রোপলিটন) জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও শহুরে জলাবদ্ধতার সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। জেলার তিনটি রাজস্ব চক্র এবং একাধিক এলাকা জলমগ্ন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে পদুমবাড়ি, বরাগাঁও, এক্সেলকেয়ার হাসপাতাল এলাকা, লাচিতনগর, জু রোড, রুক্মিণীগাঁও, অনিলনগর, নবীননগর, সাতগাঁও, বেহারবাড়ি, হাতিগাঁও, ওয়্যারলেস, জোড়াবাট এবং জুবিন ক্ষেত্র সংলগ্ন কামারকুচি। তবে শহুরে জলাবদ্ধতার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল ধীরে ধীরে কমছে, তবুও বহু স্থানে কাদা ও পলিতে আচ্ছন্ন বাড়িঘর, ভেঙে পড়া সড়ক যোগাযোগ এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির জন্য বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস